Published : 21 Sep 2025, 09:15 PM
ঢাকার তুরাগে কাশবনের ভেতরে এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের মামলায় তার স্বামী বাবুল মিয়া এবং তার সহযোগী সম্রাট আদালতে ‘দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন’ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার পৃথক দুই মহানগর হাকিম রোববার তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই আতিকুর রহমান বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তুরাগ থানার এসআই মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম দুই আসামি বাবুল এবং সম্রাটকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন।
“মহানগর হাকিম পার্থ ভদ্র আসামি বাবুলের এবং আরেক মহানগর হাকিম মেহেদী হাসান আসামি সম্রাটের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।”
জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, ‘পারিবারিক কলহের কারণে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে’ বিথী আক্তার বিলকিসকে হত্যা করা হয়।
মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে পুলিশ বাবুলকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী পল্লবী থেকে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলায় বলা হয়, বিলকিস ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের গ্যারিসনে প্রয়াস স্কুলের ক্লাস সহকারী হিসেবে চাকরি করতেন। ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি ইসিবি চত্বরে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন। দীর্ঘ সময় না ফেরায় এবং তার ফোন বন্ধ পাওয়ায় মা মনোয়ারা বেগম পরদিন ক্যান্টনমেন্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
শুক্রবার তুরাগের রাজউকের ১৭ নম্বর সেক্টরের খেলার মাঠের পাশে কাশবনের ভেতরে এক নারীর অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায়। পরে তুরাগ থানায় গিয়ে পরনের হিজাব, লাল রংয়ের বলপ্রিন্টের গেঞ্জি ও কালো রংয়ের পালাজ্জো দেখে বিলকিসকে শনাক্ত করেন তার মা।
ওই ঘটনায় শনিবার তুরাগ থানায় মামলা করেন মনোয়ারা বেগম। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিলকিস ও বাবলুর মধ্যে ব্যাপক পারিবারিক কলহ চলছিল।
“এর কারণ সে ও তার স্ত্রী প্রায় ২০-২৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিল। প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা সুদ দিতে হত। ওয়ার্কশপে মেকানিক হিসেবে কাজ করে বাবুল ৩১-৩২ হাজার টাকা বেতন পান। প্রতিমাসে সুদের টাকা দিতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হত।
“সুদের টাকার জন্য প্রায়ই পাওনাদাররা বাসায় যেত, এ নিয়ে বিলকিস তার স্বামীকে বকাবকি করত। যা থেকে দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিল। বাবুলের সন্দেহ ছিল, তার স্ত্রী টাকা নিয়ে তার ভাই-মাকে দিয়েছে। তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছালে ২-৩ মাস আগে বাবুল পরিকল্পনা করে স্ত্রীকে মেরে ফেলবে। সে থেকেই সঙ্গীদের নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটনায় বাবুল।”
সম্রাট পুলিশকে বলেছেন, ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পাওয়ার প্রতিশ্রুতিতে তিনি এ হত্যকাণ্ডে জড়ান।
বাবুল মাদকাসক্ত বলেও তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তবে অতীতে তার কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই পুলিশের খাতায়।
আরও পড়ুন