Published : 12 Dec 2025, 04:18 PM
বেঁধে দেওয়া সময়ে ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ চাকরি-বিধিমালা’ প্রণয়ন ও প্রকাশ না করায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ রেখে সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু করেছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে উত্তরার দিয়াবাড়িতে ডিএমটিসিএল প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
এ সময় ডিএমটিসিএল এমডি ফারুক আহমেদ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে ফেরত আসেন। পরে এমডিকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে এমডির কক্ষের সামনে অবস্থান নেন।
সব শেষ ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) এমডির কার্যালয়ে বিপুল পরিমান সেনা সদস্যের উপস্থিতি দেখা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিমটিসিএলের এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এমডি স্যার ওনার কক্ষে আছেন, আমাদের কর্মকর্তারাও উনার সাথে মিটিং করছেন। চেষ্টা করা হচ্ছে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে সমাধান করার।
“ইতোমধ্যে এমডি স্যার নিচে নেমে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলেছেন। তাছাড়া এখানে সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্প থাকায় প্রচুর সেনা মোতায়ন করা হয়েছে।”
ডিএমটিসিএলের এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে আছি, যার কারণে শুক্রবার কোনো ট্রেন ‘অপারেশনে’ যায়নি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে থাকবো।”
অন্যান্য দিন সকাল ৭টায় মেট্রোরেলের যাত্রা শুরু হলেও শুক্রবার ছুটির দিনে বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল করে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন বিষয়ে জানতে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও ডিএমটিসিএল এমডি ফারুক আহমেদ ধরেননি।
মেট্রোরেলের উপপ্রকল্প পরিচালক (গণসংযোগ) মো. আহসান উল্লাহ বলেন, “এখনকার বিষয় নিয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন।”
২০১৩ সালে ডিএমটিসিএল প্রতিষ্ঠার ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির ৯০০-এর বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এখনো কোনো স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা চূড়ান্ত হয়নি।
২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মেট্রো রেলের বাণিজ্যিক অপারেশন শুরু হওয়ার পর থেকে উন্মুক্ত নিয়োগে যোগ দেওয়া এসব কর্মচারী দিন-রাত দায়িত্ব পালন করলেও ছুটি, সিপিএফ, গ্র্যাচুইটি, শিফট-অ্যালাউন্স/ওভারটাইম, গ্রুপ ইনস্যুরেন্সসহ নানাধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
আন্দোলনকারীদের একজন বলেন, ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে চাকরি বিধি প্রণয়নের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কর্মচারীরা আন্দোলনে নামলে ২০ ফেব্রুয়ারি কর্তৃপক্ষ ২০ মার্চের মধ্যে চাকরি বিধি চূড়ান্ত করার আশ্বাস দেয়। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিও গেল নয় মাসে বাস্তবায়ন হয়নি।
একজন কর্মকর্তা বলেন, গেল ১০ ডিসেম্বর কোম্পানির ব্যবস্থাপনার পরিচালক (এমডি) কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকে বলেছেন, চাকির বিধির সব ধারা নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ একমত হলেও ‘বিশেষ বিধান’ সংক্রান্ত একাদশ অধ্যায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ‘বিশেষ বিধানের’ সঙ্গে মেট্রোরেল প্রকল্পসমূহের জনবলকে ডিএমটিসিএলে আত্মীকরণের বিষয় জড়িত, যা কর্মচারীদের দাবি—বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আন্দোলনকারীদের আরেকজন বলেন, “পরিচালনা পর্ষদ বিতর্কিত বিধান বাদ দিতে আগ্রহী হলেও ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষের চাপের কারণেই সার্ভিস রুল প্রকাশ বিলম্বিত হচ্ছে।”
মেট্রোরেলের দৈনন্দিন কয়েক লাখ যাত্রীর ভোগান্তি সৃষ্টি হলেও কর্মচারীরা বলছেন, এই কর্মসূচির সম্পূর্ণ দায় ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।