সাবেক মেজর সাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন নাকচ, কারামুক্তিতে ‘বাধা নেই’
সেনাবাহিনী থেকে চাকুরিচ্যুত এই মেজরকে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর তিন মাসের কারাদণ্ড দেয় সামরিক আদালত।
রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় প্রাইভেটকার পোড়ানোর ঘটনায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সেনাবাহিনী থেকে চাকুরিচ্যুত মেজর সাদিকুল হক সাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন নাকচ করে দিয়েছে আদালত। ফলে আর কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় সাদিকের কারামুক্তিতে ‘বাধা নেই’।
এর আগে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত রোববার সাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন নামঞ্জুর করেন।
মেজর সাদিকের আইনজীবী এইচ. এম আল-আমিন বলেন, “তার বিরুদ্ধে ভাটারা থানার একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা আছে। ওই মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। এরপর তাকে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। তবে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। আর কোনো মামলায় না থাকায়, তার কারামুক্তিতে বাধা নেই।”
এর আগে চাকরিচ্যুত মেজর সাদিককে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর তিন মাসের কারাদণ্ড দেয় সামরিক আদালত। তখন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অন্য একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর বসুন্ধরা এলাকায় একটি প্রাইভেট কার পোড়ানোর মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে সাদিকুল হককে গ্রেপ্তার দেখাতে গত ৭ অগাস্ট আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই চাঁদ আলী।
আবেদনে বলা হয়, আসামি সাদিক ভাটারা থানার অন্য একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তদন্তে বসুন্ধরায় গাড়ি পোড়োনোর ঘটনায় তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন গেল সোমবার। আসামিপক্ষের আইনজীবী এইচ. এম আল-আমিন সেদিন আদালতে বলেন, “ঘটনার সময় আসামি কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থেকে তিনি কিভাবে গাড়ি পোড়ান?”
কারাগারে থেকে কিভাবে মামলার ঘটনার সঙ্গে সাবেক মেজর সাদিক জড়িত এ বিষয়ে ভাটার থানার ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে রোববার ব্যাখা দিতে বলে আদালত। সে অনুযায়ী এ দিন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখা দিলেন।
লিখিত ব্যাখায় বলা হয়, মামলার তদন্তে উঠে এসেছে সন্দিগ্ধ আসামি চাকুরিচ্যুত সাবেক মেজর সাদিক সেনাবাহিনীতে চাকরি করা থাকা অবস্থায় ২০২৫ সালের ৩ জুলাই থেকে ৮ জুলাই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন কেবি কনভেনশন হলের দ্বিতীয় তলার হল রুমে গোপন সভা করেন
সেদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিনব্যাপী কার্যক্রমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের অংশগ্রহণে সেটি ছিল একটি ‘গোপন সভা’। ওই সভায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডকে গতিশীল এবং সমর্থকদের উৎসাহিত করা এবং দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে আলোচনা এবং প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে তারা সবাই একত্রিত হন।
এ ঘটনায় ভাটারা থানায় গত বছরের ১৩ জুলাই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। ওই মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসাবে কারাগারে আছেন মেজর সাদিকুল হক সাদিক।
ব্যাখ্যায় আরো বলা হয়, সাবেক মেজর সাদিক প্রধান প্রশিক্ষক এবং কানেক্টরের ভূমিকায় থেকে রুপগঞ্জ থানার পূর্বাচল সি-সেল নামে রিসোর্ট, কাঁটাবনের একটি রেস্টুরেন্ট, মিরপুর ডিওএইচএসসহ উত্তরায় ১২ নম্বর সেক্টর এবং আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বিপরীতে প্রিয়াংকা সিটিতে তার স্ত্রী সুমাইয়া যাফরিনসহ তার ফ্ল্যাটের একাধিকবার এ ধরনের গোপন প্রশিক্ষণ/ওয়ার্কশপ আয়োজন করেছিলেন। এ ধরনের গোপন সভা, প্রশিক্ষণ/ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারী আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হয়েছেন, আবার অনেকেই হননি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য দেশকে অস্থিতিতিশীল করার লক্ষ্যে পলাতক নেতাকর্মীরা মেজর সাদিকের ওই সভা থেকে পরিকল্পনা গ্রহণ ও প্রশিক্ষণ নেয়। আসামির আগের নির্দেশনা, অর্থায়নে ও মদদে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরবর্তীতে মামলার তারিখ ও সময়ে গাড়ি পোড়ান হয়। এ জন্য সন্দিগ্ধ আসামি মেজর সাদিকের এ মামলার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
বিচারক লিখিত বক্তব্য পড়ে এ বিষয়ে আদেশ দেবেন বলে জানান। পরে সাবেক মেজর সাদিককে গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ দেয় আদালত।
