Published : 16 Aug 2026, 02:07 PM
সাবেক মেজর মো. সাদিকুল হক সাদিক কারাগারে থেকে কীভাবে গাড়ি পুড়িয়েছেন-সেই ব্যাখা দিয়েছে ভাটারা থানার পুলিশ। ভাটারা থানার বসুন্ধরা এলাকায় প্রাইভেটকার পোড়ানোর ঘটনায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তিনি সন্দিগ্ধ আসামি।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে রোববার ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম এবং তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. চাঁদ আলী লিখিত ব্যাখা জমা দেন।
বিচারক লিখিত বক্তব্য পড়ে এ বিষয়ে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশনের পুলিশের এসআই কামাল হোসেন।
লিখিত ব্যাখায় উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার তদন্তে উঠে এসেছে সন্দিগ্ধ আসামি চাকুরিচ্যুত সাবেক মেজর সাদিক সেনাবাহিনীতে চাকরি করা থাকা অবস্থায় ২০২৫ সালের ৩ জুলাই থেকে ৮ জুলাই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন কেবি কনভেনশন হলের দ্বিতীয় তলার হল রুমে গোপন সভা করেন
সেদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত দিনব্যাপী কার্যক্রমে নিষিদ্ধা থাকা আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের অংশ গ্রহণে সেটি ছিল একটি ‘গোপন সভা’।
“ওই সভায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডকে গতিশীল ও সমর্থকদের উৎসাহিত করা এবং দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে আলোচনা এবং প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে তারা সবাই একত্রিত হন।”
এ ঘটনায় ভাটারা থানায় গেল বছরের ১৩ জুলাই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসাবে কারাগারে আছেন মেজর মো. সাদিকুল হক সাদিক।
ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, “সাবেক মেজর সাদিক প্রধান প্রশিক্ষক এবং কানেক্টরের ভূমিকায় থেকে রুপগঞ্জ থানার পূর্বাচল সি-সেল নামের রিসোর্ট, কাঁটাবনের একটি রেস্টুরেন্ট, মিরপুর ডিওএইচএসসহ উত্তরায় ১২ নম্বর সেক্টর এবং আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বিপরীতে প্রিয়াংকা সিটিতে তার স্ত্রী সুমাইয়া যাফরিনসহ তার ফ্ল্যাটের একাধিকবার এ ধরনের গোপন প্রশিক্ষণ/ওয়ার্কশপ আয়োজন করেছিলেন। এ ধরনের গোপন সভা, প্রশিক্ষণ/ওয়ার্কশপে অংশগ্রহনকারী আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হয়েছেন, আবার অনেকেই হননি। ফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য দেশকে অস্থিতিতিশীল করার লক্ষ্যে পলাতক নেতা কর্মীরা মেজর সাদিকের ওই সভা থেকে পরিকল্পনা গ্রহন ও প্রশিক্ষণ নেয় এবং আসামির পূর্বের নির্দেশনা, অর্থায়নে ও মদদে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরবর্তীতে মামলার ঘটনার তারিখ ও সময় বাদীর গাড়ি পোড়ায়।” এজন্য সন্দিগ্ধ আসামি মেজর সাদিকেরর এ মামলার সাথে জড়িত থাকার তথ্য গোপন ও প্রকাশ্যে তদন্তে পাওয়া যায়।
২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর বসুন্ধরা এলাকায় একটি প্রাইভেট কার পোড়ানোর মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে সাদিকুল হককে গ্রেপ্তার দেখাতে গত ৭ অগাস্ট আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই চাঁদ আলী।
সেই আবেদনে বলা হয়, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে ওই ঘটনা ঘটানো হয়। আসামি সাদিক ভাটারা থানার অন্য একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তদন্তে এ ঘটনায় তার ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে’।
আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন গেল সোমবার। ওই দিন শুনানিকালে মেজর সাদিককে আদালতে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী এইচ. এম আল-আমিন সেদিন আদালতে বলেন,"ঘটনার সময় আসামি কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থেকে তিনি কিভাবে গাড়ি পোড়ান।"
কারাগারে থেকে কিভাবে মামলার ঘটনার সাথে সাবেক মেজর সাদিক জড়িত এ বিষয়ে ভাটার থানার ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে রোববার ব্যাখা দিতে বলে আদালত। সেই অনুযায়ী এদিন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখা দিলেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর রাতে ভাটারা থানার বিটুমিন গেইটের সামনে প্রাইভেট কার রেখে বাসায় গিয়েছিলেন মনির হোসেন নামে একজন। পরে গাড়িটিতে আগুন লাগার খবরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে।
এরপর সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনির হোসেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৩ নভেম্বরের ‘কমপ্লিট শাট ডাউন’ কর্মসূচির ব্যাপারে জানতে পারেন। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তখন ছাত্রলীগ, যুবলীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। সেখানে কারো নাম তুলে না ধরে ২০/২৫ জনকে আসামি করেন।
সেনাবাহিনী থেকে চাকুরিচ্যুত মেজর সাদিককে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর তিন মাসের কারাদণ্ড দেয় সামরিক আদালত। তখন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
আরও পড়ুন:
কারাগারে থেকে কীভাবে গাড়ি পোড়ান সাবেক মেজর সাদিক, ব্যাখ্যা