Published : 26 Jan 2014, 11:34 PM
সাক্ষ্যে তিনি জানান, ১৯৭১ সালের শ্রাবণ মাসে তাদের গ্রাম শাঁখারিকাঠিতে রাজাকাররা ঢুকে ঘোষণা করে সবাইকে মুসলিম হতে হবে। গ্রামের প্রায় তিন-চারশ’ মানুষকে জোর করে ধর্মান্তরিতও করে তারা। পরে জানতে পারেন এলাকায় ‘রাজাকার মেজর’ ইউসুফ এসেছেন।
এরপরে ১৩ কার্তিক তারিখে শাঁখারীকাঠিতে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় রাজাকাররা। ওই ঘটনায় তার স্বামী মহাদেব চন্দ্র দাস নিহত হন বলে জানান সাক্ষী উল্লাসিনী দাস।
বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রোববার সাক্ষ্য দেন তিনি।
সাক্ষ্যে তিনি আরো বলেন, শাঁখারীকাঠি গ্রামের সব হিন্দুকে সনাতন ডাক্তারের বাড়িতে গিয়ে মুসলমান বানিয়ে সবাইকে মুসলমান নাম দেয়া হয়েছিল।
তবে তাকে দেয়া মুসলিম নাম মনে নেই বলে জানান সাক্ষী।
“পরে ডাক্তার সনাতন বাবুর দুটি গরু জবাই করে সবাইকে ডেকে ডেকে খাওয়াতে নিয়ে যায় রাজাকাররা। অনেকে খেতে না চাইলে গরুর খড়ে আগুন জ্বালিয়ে সবার মাঝে আতঙ্ক বাড়িয়ে দেয় তারা।”
উল্লাসিনী দাস বলেন, “এই ঘটনার পর শোনা যায়, আমাদের এলাকায় রাজাকার মেজর ইউসুফ এসেছে। সে এলাকার সবাইকে নিরাপত্তা দেবে।”
তিনি জানান, গ্রামে ইউসুফের যাওয়ার কিছুদিন পর (১৩ কার্তিক) শাঁখারীকাঠী গ্রামে রাজাকাররা হঠাৎ এলোপাতারি গুলি করতে থাকে। এসময় তার স্বামী মাহাদেব চন্দ্র দাস ওই বাজারেই অবস্থান করছিলেন।
স্বামীকে খুঁজতে বাজারে গিয়েছিলেন উল্লাসিনী। নাম ধরে ডাক দিলে নদীর অন্য পাড়ে হাত তুলে সাড়া দেন তার স্বামী। নদীর আশেপাশে পড়ে থাকা লাশ পার হয়ে ওপারে গিয়ে স্বামীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। লাশ বাসায় নিতে নিতে স্বামীর মৃত্যু হয়।
সৎকার করতে না পেরে রাতে গ্রামের অন্যান্য মহিলাদের নিয়ে স্বামীর লাশ বিষখালী নদীতে ভাসিয়ে দেন বলে জানান উল্লাসিনী।
“ওই ঘটনার পরে লোকজন বলাবলি করছিল যে, ইউসুফ মওলানা এসে দেশটাকে ধ্বংস করে দিল।”
সাক্ষ্য দেয়ার পরে তাকে জেরা করেন ইউসুফের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম।
জেরায় আইনজীবীর প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ‘রাজাকারের মেজর’ ইউসুফকে ১৯৭১ সালের ঘটনার আগে কোনো দিন দেখেননি এবং তার নামও শোনেননি।
জেরায় আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ১৩ কার্তিক যাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে সবাই হিন্দু ছিল।
জেরার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার স্বামী মহাদেব সাহা ধর্মান্তরে বাধ্য হওয়ার পর মুসলিম নিয়মে দাড়ি রেখে টুপি পড়ে নামাজ পড়তেন।
২০১৩ সালের ১ আগস্ট ইউসুফের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটসহ ৪ ধরনের ১৩টি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি হত্যা, ৭টি গণহত্যার এবং অগ্নিসংযোগ ও একটি লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে।