Published : 06 Nov 2013, 12:45 PM
সংসদে গ্রামীণ ব্যাংক বিল পাসের সমালোচনা করে বুধবার সকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংকের চরিত্র পরিবর্তন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিল পাসের মাধ্যমে সরকার এই প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করতে চায়। এজন্য এই বিল পাস করা হয়েছে।”
গ্রামীণ ব্যাংককে নিজের মতো করে চলতে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, “আমরা সরকারকে বলবো- এখনো সময় আছে, গ্রামীণ ব্যাংককে নিজস্ব গতিতে চলতে দিন। এই ব্যাংকটিকে নিয়ন্ত্রণ করার পথ থেকে সরে আসুন।”
ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল করার ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা তুলে ধরেন তিনি।
“এই মর্যাদাশীল প্রতিষ্ঠান আমাদের দেশের জন্য আন্তর্জাতিক সন্মান নিয়ে এসেছে,” বলেন ফখরুল।
মঙ্গলবার সংসদে গ্রামীণ ব্যাংক বিল পাস হয়, যাতে এখন থেকে সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আর্থিক হিসাব দিতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে। একেই গ্রামীণ ব্যাংকের ‘স্বাধীনতা খর্ব’ বলে আসছেন ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইউনূস।
এছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোনয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্তৃত্ব বেড়েছে, যাকে ‘বাইরের হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছিল ব্যাংকটির ইউনূস সমর্থক নির্বাচিত পরিচালকরা।
ইউনূস ও তার সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপিও গ্রামীণ ব্যাংক আইন সংশোধনের আপত্তি করে আসছিল। যুক্তরাষ্ট্রও ইউনূসের পক্ষে অবস্থান নেয়।

গ্রামীণ ব্যাংক ভবন
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সামরিক শাসনামলে নেয়া বিভিন্ন অধ্যাদেশ পরিবর্তন ও বাতিলের কাজ শুরু করে। এরই আওতায় ১৯৮৩ সালের গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ বতিল করে নতুন আইনের প্রস্তাব করা হয়।
তবে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকারের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি দাবি করেন, সরকার ব্যাংকটি ‘ধ্বংসের’ ষড়যন্ত্র করছে।
এইচ এম এরশাদের সামরিক শাসনামলে ১৯৮৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ জারির সময় মুহিত ছিলেন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে।
গ্রামীণ ব্যাংকের সূচনা হওয়ার পর থেকেই এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ইউনূস। ২০০৬ সালে তিনি ও গ্রামীণ ব্যাংক দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে শান্তিতে অবদানের জন্য জন্য নোবেল পুরস্কার পান।
অবসরের বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে ২০১১ সালের মার্চে ইউনূসকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে হেরে ইউনূস পদত্যাগ করেন।