জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাচ্চুকে দুদকে তলব

বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় এর সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Nov 2017, 05:07 AM
Updated : 23 Nov 2017, 01:45 PM

কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান,বাচ্চুকে আগামী ৪ ডিসেম্বর দুদকে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়াব্যাংকটির সাবেক ১০ পরিচালককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বুধবার থেকে এই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রনববলেন, ওই ব্যাংকের সাবেক পরিচালক কামরুন নাহার আহমেদ ও অধ্যাপক কাজী আকতার হোসাইনকেগত দুই দিনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ওফখরুল ইসলামকে ২৭ নভেম্বর; একেএম কামরুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিমকে ২৮ নভেম্বর;মো. আনোয়ারুল ইসলাম ও আনিস আহমদকে ২৯ নভেম্বর এবং একেএম রেজাউর রহমাকে ৩০ নভেম্বর জিজ্ঞাসাবাদকরা হবে।

আরেক সাবেক পরিচালক শ্যাম সুন্দর শিকদারকে বুধবারজিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও তিনি আসেননি বলে দুদক থেকে জানানো হয়।

২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়াত্ত বেসিক ব্যাংকেরগুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে মোট সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ অনিয়মের মাধ্যমেবিতরণের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তে নামে দুদক।

ঋণপত্র যাচাই না করে জামানত ছাড়া, জাল দলিলে ভুয়া ব্যক্তিও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দানসহ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিধি বহির্ভূতভাবে ঋণ অনুমোদনেরঅভিযোগ ওঠে ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে।

প্রায় চার বছর অনুসন্ধান শেষে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায়গত বছর রাজাধানীর তিনটি থানায় ১৫৬ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করে দুদক। আসামিদের মধ্যে২৬ জন ব্যাংক কর্মকর্তা এবং বাকিরা ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক জরিপ প্রতিষ্ঠানেযুক্ত।

তবে আসামির তালিকায় বাচ্চু বা ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনাপর্ষদের কেউ না থাকায় দুদকের ওই তদন্ত নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

এ বিষয়ে দুদকের বক্তব্য ছিল, ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় বাচ্চুরসংশ্লিষ্টতা তারা পায়নি। তাই তার নাম আসামির তালিকায় রাখা হয়নি।

কিন্তু গতবছর ফেব্রুয়ারিতে সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রীআবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকের নিয়োগ করা নিরীক্ষকেরপ্রতিবেদনে অনিয়মিত ঋণ মঞ্জুর, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে পরিচালনা পর্ষদের তৎকালীন চেয়ারম্যানআব্দুল হাই বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতা ছিল।

আর চলতি বছর অগাস্টে এক মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিলবিভাগ বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদকেআসামি না করায় উষ্মা প্রকাশ করে।

ব্যক্তি যেই হোক না কেন- এ ধরনের মামলায় আসামি করার ক্ষেত্রে‘পিক অ্যান্ড চুজ’ যেন না হয় সে বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সেসময় সতর্ক করে আদালত।

এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে দুদকের একজন পরিচালক সাংবাদিকদের বলেছিলেন,আসামির তালিকায় নাম না থাকলেও তদন্তের প্রয়োজনে বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য বাচ্চুকে ২০০৯ সালে বেসিকব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০১২ সালে তার নিয়োগ নবায়নও হয়।

কিন্তু ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে ২০১৪ সালে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনাপরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করার পর চাপের মুখে থাকা বাচ্চু পদত্যাগ করেন।

অর্থমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, পদত্যাগ করলেই পার পাবেন না বাচ্চু।তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক