Published : 16 Nov 2017, 07:01 PM
বৃহস্পতিবার ঢাকার যাত্রাবাড়ি জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া মাদ্রাসায় পাঁচ সদস্যের এই উপদেষ্টা কমিটি গঠনের পর তাবলিগের ‘মুরব্বিরা’ জানিয়েছেন, এখন থেকে কাকরাইলে মজলিশে শূরা সদস্যদের মধ্যে কোনো বিষয়ে দ্বিমত হলে তার সমাধান মিলবে এই উপদেষ্টা কমিটির কাছে।
কমিটির সদস্যরা হলেন-মালিবাগ শারাইয়া মাদ্রাসার শাইখুল হাদিস আল্লামা আশরাফ আলী, যাত্রাবাড়ী জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা মাহমুদুল হাসান, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আল্লামা আব্দুল কুদ্দুছ, শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ ও মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল মালেক।
যাত্রাবাড়ির ওই সভায় তাবলিগ জামাতের ‘মারকাজ’ কাকরাইলের ১১ শূরা সদস্যের মধ্যে ১০ জন উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থতার কারণে একজন উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানানো হয়।
উপস্থিত শূরা সদস্যরা হলেন- মাওলানা জুবায়ের আহমদ, রবিউল হক, মোহাম্মদ হোছাইন,ফারুক, খান শাহাবউদ্দীন নাসিম, ওমর ফারুক, মোশাররফ হোসেন, ওয়াসিফুল ইসলাম,মুহাম্মদ ইউনুছ শিকদার ও শেখ নূর মুহাম্মদ।
উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আল্লামা মাহমুদুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উপদেষ্টা কমিটি গঠনে কাকরাইল মারকাজের আহলে শূরা সদস্যরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।”
উপদেষ্টা কমিটি গঠনকে ‘প্রশংসনীয়’ বলছেন বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তাবলিগ জামাতের জন্য যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ। সবার জন্য খুব ভালো একটি সিদ্ধান্ত।”
দুই শূরা সদস্য মাওলানা জুবায়ের আহমদ ও ওয়াসিফুল ইসলামের দ্বন্দ্বে মঙ্গলবার কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি বাঁধে।
বিরোধের কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাবলিগ জামাতের এক ‘মুরুব্বি’ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ভারতের দিল্লির এক সমস্যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সংগঠনে।

বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রস্থল কাকরাইল মসজিদ
“তাবলিগের মারকাজ (মূল কেন্দ্র) দিল্লিতে। ওটাকে বলা হয় নেজামউদ্দিন। ওখানকার ১৩ জন শূরা সদস্যের মাধ্যমে তাবলিগ পরিচালিত হয়। কিন্তু এক ব্যক্তি আমির দাবি করে বসে আছেন। ওই ব্যক্তির বাংলাদেশ আসা, না আসা নিয়ে মতবিরোধ।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওলামা কেরাম এবং তাবলিগের যারা মূল দায়িত্বশীল, তারা মনে করেন যে ওই ব্যক্তির আসার উচিৎ নয়। কিন্তু দুই-এক নেতা চান, তার আসা উচিৎ।”
এ নিয়ে দ্বন্দ্বে মাওলানা জুবায়ের ও মাওলানা ওয়াসিফুলের কথাবার্তাও বন্ধ বলে জানান তাবলিগের এই সদস্য।
তিনি বলেন, “ওই দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি হ্রাস করার জন্যই এই (উপদেষ্টা) কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আল্লামা মাহমুদুল হাসান বলেন, “আজ সকালে দুজনের (জুবায়ের ও ওয়াসিফুল) মধ্যে আন্তরিকভাবে কথাবর্তা হয়েছে। এখন থেকে আর কোনো সমস্যা হবে না।”
তবে মঙ্গলবারের মারামারির কারণে এই কমিটি গঠন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
“মঙ্গলবারের ঘটনার আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।”
মঙ্গলবারের মারামারির ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন রমনা থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,“ ছোট একটি ঘটনা ঘটেছিল। দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য উত্তেজনাও ছিল। তবে কেউ মামলা করেনি।”