Published : 11 Sep 2025, 01:56 PM
'নির্বাচন কমিশন সার্ভিস’ নামে আলাদা সার্ভিস চালুর জন্য বিদ্যমান আইন দ্রুত সংশোধন চান নির্বাচন কর্মকর্তারা।
পাশাপাশি সংসদ নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্বে নির্বাচন কর্মকর্তাদের রাখারও দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিইসিওএ)।
বৃহস্পতিবার অ্যাসোসিয়েশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এর মধ্যে বিইসিএএ আহ্বায়ক কমিটির সভায় পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন।
বর্তমান নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীনে ৫ হাজারেও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন।
বদিউল আলম মজুমদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশে রয়েছে-একটি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি পৃথক সার্ভিস সৃষ্টির বিধান করা।
এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন, ২০০৯ এ সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য নির্বাচন কমিশন সার্ভিস নামে আলাদা একটি সার্ভিস থাকবে। এই সার্ভিস প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সচিব এবং অন্যান্য র্কমর্কতা নিয়োগ দেওয়া হবে।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিদ্যমান ইসি সচিবালয় আইন সংশোধন চেয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে খসড়া পাঠানো হয়েছে।
তবে মাস ধরে এ বিষয়ে কোন অগ্রগতি না থাকায় নতুন করে ইসি কর্মকর্তারা তৎপর হয়েছেন।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বলেন, "ইসির সচিব প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে সরকারের প্রভাব থাকবেই। নিজস্ব কর্মকর্তাদের দিয়ে যদি ইসি সচিব করা হলে স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের প্রভাবটাই দৃশ্যমান হবে।"
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সংস্কার কমিশনের এ সুপারিশ বাস্তবায়নে 'বিলম্ব কাম্য' নয় বলে মনে করেন তিনি।
"আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইলেকশন কমিশন সার্ভিস ব্যবস্থা বাস্তবায়ন জরুরি। এক্ষেত্রেই নিজস্ব কর্মকর্তাদের দক্ষতা, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন নির্বাচন কমিশন।"
ইসি কর্মকর্তাদের দাবি
১. নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে “নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ–২০২৫” দ্রুত জারি করে ‘নির্বাচন কমিশন সার্ভিস’ গঠন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান।
২. পদসৃজন, আপগ্রেডেশন ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিকসহ প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম অনুমোদন।
৩. জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন–২০২৩ বাতিল করে জাতীয় পরিচয়পত্র কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের নিকট হস্তান্তর।
৪. অ্যাসোসিয়েশনের যৌক্তিক প্রস্তাব বাস্তবায়নে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন ভবনে মাননীয় কমিশনের উপস্থিতিতে জরুরি সাধারণ সভা আয়োজনের লক্ষ্যে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় জুম প্ল্যাটফর্মে সভা আহ্বান।
৫. উপজেলা ইলেকশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি ও কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ।
সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়ে থাকে ইসি। আর তাদের সহায়ক হিসেবে কাজ করেন ইসি কর্মকর্তারা। তবে উপনির্বাচনগুলোতে নিজস্ব কর্মকর্তাদের দায়িত্বটি দেওয়া হয়। এখন থেকে তারা সাধারণ নির্বাচনেও দায়িত্বটি নিতে চান।