Published : 27 Jan 2025, 10:29 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ‘মুখোমুখি’ অবস্থানে দাঁড় করানোর দায় নিয়ে উপউপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদের পদত্যাগ দাবি করেছেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা।
তারা কলেজের শিক্ষার্থী রাকিবের ওপর হামলার অভিযোগে নিউ মার্কেট থানার দায়িত্বশীলদের প্রত্যাহার করারও দাবি তুলেছেন।
একইসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে বলছেন তারা। এসব দাবি পূরণে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবার রাতে কলেজ প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মো. মুঈনুল ইসলাম বলেন, “সকালে সংবাদ সম্মেলন করে আমরা স্পষ্ট ছয়টি দাবি জানিয়েছিলাম। সেখানে একটি দাবি ছিল, অধিভুক্তি বাতিল করে ঢাকা কলেজসহ সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের যে যৌক্তিক দাবি আছে, সেটি আমলে নেওয়া।
“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়েছে, সেটি আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু অন্য দাবিগুলো মেনে নেওয়ার কোনো প্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রোববার রাতে সংঘাতের সময় ইডেন কলেজ, বদরুন্নেছা কলেজসহ সাত কলেজের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অশালীন অঙ্গভঙ্গি’ করেছেন অভিযোগ তুলে মুঈনুল ইসলাম বলেন, “এই দায় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। আমাদের ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী রাকিবকে হত্যার উদ্দেশে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করেছে নিউ মার্কেট থানা পুলিশ। দায়িত্বরত ওসি, এসিসহ এ হামলার সঙ্গে যারা জড়িত আছে, তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থানে নিয়ে এসেছেন উপউপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ, এর সম্পূর্ণ দায়ভার প্রোভিসির। এর দায় নিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রোভিসিকে পদত্যাগ করতে হবে।”
দাবিগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মেনে না নেওয়া হলে নিউ মার্কেট থানা ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেন মো. মুঈনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি আমাদের দাবি মেনে না নেয় এবং ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা না করে, তাহলে ঢাকা কলেজসহ সাত কলেজের সামনে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসসহ কোনো যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না।”
রোববার রাতের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে মুঈনুল বলেন, “ঢাকা কলেজসহ সাত কলেজের শিক্ষার্থী গণতন্ত্র ও মুক্তির তোরণের দিকে যাই, সেখানে তারা শন্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করে। সাত কলেজের একজন শিক্ষার্থীও গণতন্ত্র ও মুক্তি তোরণ পার হয় নাই। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অস্ত্র-শস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা করে। আমরা এর নিন্দা জানাই।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে মুক্ত করে ঢাকার সরকারি সাত কলেজকে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোতে আনার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রোববার সন্ধ্যায় পাঁচ দফা দাবি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি মামুন আহমেদের সঙ্গে আলোচনা করতে যান। সেখানে তিনি ‘দুর্ব্যবহার’ করেন বলে পরে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
এর প্রতিবাদে রাতে শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাব ও টেকিনিক্যাল মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। পরে সায়েন্সল্যাব মোড়ের অবরোধ থেকে মিছিল নিয়ে প্রোভিসি মামুন আহমেদের বাসভবন অভিমুখে রওনা হন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
মিছিলটি নীলক্ষেত মোড় হয়ে ক্যাম্পাসের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে এলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আর সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেয় বলে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
পুলিশের বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাতের’ অভিযোগ তুলে তারা হামলায় জড়িত সবার বিচারের দাবিতে সোমবার সকাল ৯টা থেকে নিজ নিজ কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করার ঘোষণা দেন।
এমন পরিস্থিতিতে সোমবার ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের সোমবারের সব চূড়ান্ত পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়।
সোমবার দুপুরে সাত কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান।
তিনি ঘোষণা দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অধিভুক্ত সাত কলেজের ‘সম্মানজনক পৃথকীকরণের’ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৪-২৫ সেশন, অর্থাৎ চলতি বছর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সাত কলেজের শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে।