Published : 14 Jun 2026, 08:01 PM
দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট; আর কোনো মামলা না থাকায় আপতত কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
এই মামলায় দেওয়া রুল শুনানি শেষে রোববার বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
শুনানিতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. ফজলুর রহমান, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সৈয়দ মামুন মাহবুব।
দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খান মো. মইনুল হাসান লিপন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
সৈয়দ মামুন মাহবুব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা আজকে জামিনটা সিকিউর পেয়েছি, তাও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ না। আদালত সব পক্ষকে শুনে রুল ‘অ্যাবসলিউট’ করেছে। অর্থাৎ চূড়ান্ত শুনানি শেষে ওনার জামিন নিশ্চিত হয়েছে। রুল ‘অ্যাবসলিউট’ হওয়ায় এই জামিনে ওনার মুক্তি পেতে আইনগতভাবে আর কোনো বাধা নেই।”
মামলার সংখ্যা ও অন্য মামলায় গ্রেপ্তার বিষয়ে তিনি বলেন, “ওনার একটাই মামলা, যেটি দুদকের মামলা। আপাতত আর আইনি কোনো বাধা নাই। কারণ আইনের বিধানও বলে যে, একটা মানুষকে বারবার গ্রেপ্তার দেখানো যায় না।”
আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা অনুযায়ী তার পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। তারা আদালতের সেই নির্দেশনা পালন করবেন বলেছেন মামুন মাহবুব।
দুদকের মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর গত ৭ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টে জামিন আবেদন করেন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদ-জানিপপের চেয়ারম্যান কলিমুল্লাহ।
গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীম ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চের কার্যতালিকায় আবেদনটি শুনানির জন্য রাখা হলেও সেদিন শুনানি হয়নি।
অবশেষে রোববার চূড়ান্ত শুনানি শেষে তাকে জামিন দেওয়া হল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে কলিমুল্লাহসহ পাঁচজনকে আসামি করে গত বছরের জুনে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এর সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম।
এ মামলায় গেল ৬ অগাস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে অধ্যাপক কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ওইদিনই জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং পরে এ মামলায় তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছিল।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক উপাচার্য ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম নূর-উন-নবী, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদার মো. আ. সালাম বাচ্চু এবং এম এম হাবিবুর রহমান।
দুদকের এই মামলায় তৎকালীন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা ছাত্রী হল ও ড. ওয়াজেদ মিয়া রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ভবন নির্মাণে প্রায় ৪ কোটি টাকার ‘অনিয়ম ও আত্মসাতের’ অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ২০১৭ সালের ৩১ মে থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন।
উপাচার্য থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে না গিয়ে ঢাকার লিয়াজোঁ অফিস থেকে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ ছিল শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের। অনুপস্থিতির পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠলেও তৎকালীন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি পুরো মেয়াদ উপাচার্য পদে থাকার সুযোগ পান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন মামলার আরেক আসামি অধ্যাপক এ কে এম নূর-উন-নবী।