Published : 06 Apr 2026, 05:39 PM
দেশের অর্থনীতির আকার আট বছরের মধ্যে ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে সরকার।
সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ লক্ষমাত্রার কথা তুলে ধরেন।
ঢাকা-১৮ আসনের ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিয়ে যাওয়া।
এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রীকরণ, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি ও স্পোর্টস অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাত বিবেচনায় নিয়ে কর্মপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জনগণের মাথাপিছু আয় বাড়াতে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, উৎপাদন, রপ্তানি, প্রবাস আয়, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—সবগুলো দিকেই একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার।
একটি দেশে সারা বছর উৎপাদিত পণ্য ও সেবা মিলিয়ে জিডিপি হিসাব করা হয়। চূড়ান্ত হিসাবে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর শেষে দেশের মোট জিডিপির আকার ছিল ৪৫ হাজার কোটি ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থেবছরের হিসাব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেকর্ড ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। এরপর আসে কোভিড মহামারী। তাতে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি নেমে যায় ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে, যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।
সোমবার সংসদে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিত নিয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
ফেনী-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত অর্থায়নের জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সাপোর্ট চাওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা, পণ্যমূল্যের চাপ, বৈদেশিক লেনদেনের চাপ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং অতীতের অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার মধ্যেও বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও গতিশীল করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে। আরও কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কাজও চলছে।
একই প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকার অর্থনীতির ভিত মজবুত করা, মানুষের কষ্ট লাঘব, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকার স্থিতিশীলতা, সংস্কার, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং সুশাসনভিত্তিক সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার।