Published : 01 May 2026, 09:39 PM
রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে এক হজযাত্রীর হাতব্যাগ থেকে সৌদি রিয়াল চুরির ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চুরি হওয়া ২২ হাজার সৌদি রিয়ালের মধ্যে সাড়ে ১৭ হাজার রিয়াল ও ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাকি রিয়াল চোর চক্র ভাঙিয়ে ফেলেছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন হাবিবুর রহমান ও মো. নাদিম। বৃহস্পতিবার বিকেলে ও রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
২২ এপ্রিল হজক্যাম্প থেকে হজযাত্রী ইমান আলীর ব্যাগ হতে ২২ হাজার সৌদি রিয়াল ও ১০ হাজার টাকা চুরি হয়। এ সময় ইমান আলীর সঙ্গে তার হজযাত্রী স্ত্রীও ছিলেন।
ঘটনার সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা যায়, ২২ এপ্রিল হজযাত্রী ইমান আলী তার হাতব্যাগটি ‘ভুলবশত’ বাথরুমে রেখে মসজিদে যান। এ সময় হজযাত্রীর ছদ্মবেশে থাকা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা এক ব্যক্তি ক্যাম্পের ভেতরে ঢুকে ব্যাগটি খুলে তাতে থাকা রিয়াল ও টাকা নিয়ে নেন। পরে ব্যাগটি সেখানেই ঝুলিয়ে রেখে নিরাপত্তাকর্মীদের সামনে দিয়েই বেরিয়ে যান।
ব্যাগ হারিয়ে হজ পরিচালকের দপ্তরে অভিযোগ করেন ইমান আলী। পরে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদের পক্ষ থেকে তাকে দুই হাজার রিয়াল দিয়ে নির্ধারিত ফ্লাইটে সৌদি আরব পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পরদিন ভুক্তভোগী ইমান আলীর ছেলে সায়মন আহমেদ ঢাকার বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।
পুলিশের বরাত দিয়ে ঢাকা হজ অফিসের পরিচালক লোকমান হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে হজযাত্রীর ছদ্মবেশে ঠিক কে ব্যাগ থেকে টাকা চুরি করেছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। তবে চুরির সময় গ্রেপ্তারদের আরেকজন হজক্যাম্পের ভিতরেই ছিলেন। তাদের দুজনই ইজতেমা ময়দানে আতর বিক্রি করতেন।
ডিএমপির এয়ারপোর্ট জোনের সহকারী কমিশনার পারভেজ রানা বলেন, “ঘটনার পর থেকেই আমরা সিসিটিভি ভিডিও বিশ্লেষণ করে আসামিদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছিলাম। এক আসামির অবস্থান চাঁদপুরের মতলবে শনাক্ত হওয়ার পর তাকে ধরতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে অভিযান শুরু হয়।
তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে আসামি হাবিবুরের অবস্থান শনাক্ত করে চাঁদপুরের মতলবে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু আসামি অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকলে তার পিছু নিয়ে কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ঘুরে ঢাকার খিলক্ষেতে থামে আভিযানিক দল।
এরপর খিলক্ষেতে একাধিক ভবনে তল্লাশি করে রাত ৩টার দিকে হাবিবুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় নাদিমকে।
নাদিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একই এলাকায় অভিযান চালানো হয় তাদের চক্রের হোতা আব্দুল মান্নানের বাসায়। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মান্নানের বড় মেয়ে মুক্তার বাসায় অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া সাড়ে ১৭ হাজার রিয়াল এবং মান্নানের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসা থেকে ৯০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা পারভেজ রানা বলেন, আসামিরা ২৬ এপ্রিল সাড়ে তিন হাজার রিয়াল মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ভাঙিয়ে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা তোলে। এর মধ্যে ৯০ হাজার টাকা মান্নানের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে। আব্দুল মান্নানের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।