১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মাদক মামলায় ভাগ্নের সাজার রায় শুনে মামার মৃত্যু

"দেখি বুক চেপে বসে আছেন। তাকে ধরে বসাই। বসানোর পর দেখি হাত-পা ছেড়ে দিছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jun 2026, 05:17 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:32 PM

মোহাম্মদপুর থানার করা মাদক মামলায় মো. মিঠুন নামের এক ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত; সাজার রায় শুনে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন তার মামা আইয়ুব আলী বিহারী।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ ঘটনা ঘটে।

রায় শোনার পর আদালত কক্ষের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আইয়ুব আলীকে পাশেই ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারপর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক এস এম রাশেদুল হাসান বলেন, "আমাদের এখানে (হাসপাতালে) আসার আগেই তিনি মারা গেছেন। ধারণা করছি, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তিনি মারা গেছেন।"

প্রায় ১ হাজার ৯০০ ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় এদিন ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-১১ এর বিচারক নজরুল ইসলাম ৯ আসামিকে পাঁচ বছরের সাজা দেন।

মিঠুনের মামলার রায় শুনতে এদিন আইয়ুব আলী বিহারী আদালতে আসেন, তিনি সেলুনের দোকানে কাজ করতেন।।

সংশ্লিষ্ট আদালতের ওমেদার শহীদুল ইসলাম বলেন, "রায়ের পর মিঠুন সাথে তার মামা কথা বলেন। এর মাঝেই বৃষ্টি শুরু হয়। দেখি উনি কেমন যেন করছেন। বিষয়টি আদালতকে অবহিত করি। আদালত তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বলেন। পরে কোর্টের দুই জন ও দুই জন পুলিশ সদস্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎস তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

ওই কোর্টের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য আব্দুর আজিম বলেন, "দেখি বুক চেপে বসে আছেন। তাকে ধরে বসাই। বসানোর পর দেখি হাত-পা ছেড়ে দিছে। তাকে শোয়ায় দেই। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।

তখন দায়িত্বে থাকা আরেক পুলিশ সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, “দেখি রায় শুনে উনি ছোটাছুটি করছেন। উকিলকে খুঁজছেন। পরে তো অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেক বুঝালাম, উচ্চ আদালতে গেলে জামিন পেয়ে যাবে। উনি অস্থির হয়ে পড়েন। পরে তো মারাই গেলেন।”

আইয়ুব আলীর অসুস্থতার খবর শুনে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে কয়েকজন প্রতিবেশী ছুটে আসেন। তাদের একজন মো. রাশেদ বলেন, তাদের ফোন করে জানানো হয় যেঅসুস্থ হয়ে আইয়ুব আলী হাসপাতালে আছেন। 

তিনি বলেন, "তারা দুইজনই আজিমপুরে সেলুনের দোকানে কাজ করে। মিঠুনের বাবা তাদের ছেড়ে চলে গেছে। কিছু দিন আগে মাও মারা যায়। ছোটবেলা থেকে মিঠুনকে বড় করেছেন ওর মামাই।"

সাজাপ্রাপ্ত অপর আট আসামি হলেন- মো. মুরাদ, ছাবির, মো. রাজা, মো. মাসুম হোসেন, মো. বিল্লাল, রাজা, মো. ওয়াহিদুল সনু ও মো. জুম্মন মিয়া।

আসামিদের মধ্যে মিঠু ও মাসুম আদালতে হাজিরা দেন। তবে রায় ঘোষণার আগে হাজিরা দিয়ে পালিয়ে যান মাসুম। রায়ের সময় শুধু মিঠুনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। 

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার জেনেভা ক্যাম্পে মাদক ক্রয়-বিক্রি হচ্ছে এমন সংবাদে অভিযান চালায় র‍্যাব-২। এসময় এক হাজার ৯৫০টি ইয়াবাসহ নয়জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এর মধ্যে মিঠুনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২৫০ ইয়াবা।

এ ঘটনার ওইদিনই র‍্যাব-২ এর ইন্সপেক্টর ইকরামুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ২২ জুলাই ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মোহাম্মদপুর থানার এসআই সাজেদুল হক। 

পরের বছরের ২৭ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।