দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হাসেমপুত্র রাসেল আত্মসমর্পণের পর কারাগারে
এম এ হাসেমের দুই ছেলে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেলসহ ৮ জনকে গত ১৩ অক্টোবর পৃথক দুই ধারায় সাতবছর করে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত।
পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালতে রোববার আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন শওকত আজিজ রাসেল।
তারপক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা খান শুনানি করেন। দুদকের পক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন প্রসিকিউটর খন্দকার শামীম হোসেন।
খন্দকার শামীম হোসেন বলেন, “পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি শওকত আজিজ রাসেল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তার পক্ষের আইনজীবীরা এ মামলায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন। পরে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।”
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর একই আদালত এম এ হাসেমের দুই ছেলে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেল, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালউদ্দিন চৌধুরীসহ ৮ জনকে পৃথক দুই ধারায় সাতবছর করে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- রাজউকের সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) এস ডি ফয়েজ, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (অর্থ) এস এম জাফর উল্লাহ, সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) এইচ এম জহুরুল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট) রেজাউল করিম তরফদার।
দণ্ডিতদের মধ্যে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেলের নামে ১০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ দিয়েছিল রাজউক।
রাসেল ও রুবেল দুজনই পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের ছেলে। শওকত আজিজ আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এমডি। তিনি বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। অন্যদিকে পারটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবেল সিটি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামি ইকবালউদ্দিন, ফয়েজ, ওয়াহিদুল, জাফর উল্লাহ, জহিরুল হক ও রেজাউল করিম বৈধ আবেদনকারীদের সুযোগ না দিয়ে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেলকে পূর্বাচলে ১০ কাঠার একটি করে প্লট বরাদ্দ দেন। রাজউক কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০০১ সাল থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে এসব অনিয়ম করেন।
তখন রাসেল ও রুবেলের বাবা এম এ হাসেম নোয়াখালী-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন।
এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস মতিঝিল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন কমিশনের তৎকালীন উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম। ২০১৯ সালের ২৬ অগাস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।
