০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

প্লট দুর্নীতি: হাসেমের দুই ছেলের সঙ্গে সাবেক রাজউক চেয়ারম্যানও দণ্ডিত

পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের ছেলে রাসেল আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান। আরেক ছেলে রুবেল পারটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

প্লট দুর্নীতি: হাসেমের দুই ছেলের সঙ্গে সাবেক রাজউক চেয়ারম্যানও দণ্ডিত

শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 13 Oct 2026, 02:31 PM

Updated : 13 Oct 2026, 05:37 PM

পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির মামলায় পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের দুই ছেলে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেল; রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালউদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

ঢাকার নবম বিশেষ জজ আব্দুস সালাম মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন—রাজউকের সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) এস ডি ফয়েজ, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (অর্থ) এস এম জাফর উল্লাহ, সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) এইচ এম জহুরুল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট) রেজাউল করিম তরফদার।

দণ্ডিতদের মধ্যে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেলের নামে ১০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ দিয়েছিল রাজউক।

রাসেল ও রুবেল দুজনই পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের ছেলে। আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এমডি রাসেল বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। আর পারটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবেল সিটি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন।

Image

ইকবালউদ্দিন চৌধুরী

দুদকের কৌঁসুলি খন্দকার শামীম হোসেন বলেন, “অপরাধমূলক অসদাচরণের দায়ে ৮ আসামিকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

“এছাড়া অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের দায়ে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে।”

দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে জানিয়ে কৌঁসুলি শামীম বলেন, সেক্ষেত্রে তাদের সাত বছর করে কারাভোগ করতে হবে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু বলেন, “আসামিরা জামিনে ছিলেন। তবে আজ তারা আদালতে হাজির হননি।

“এজন্য আদালত জামিন বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।”

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামি ইকবালউদ্দিন, ফয়েজ, ওয়াহিদুল, জাফর উল্লাহ, জহিরুল হক ও রেজাউল করিম বৈধ আবেদনকারীদের সুযোগ না দিয়ে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেলকে পূর্বাচলে ১০ কাঠার একটি করে প্লট বরাদ্দ দেন। রাজউক কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০০১ সাল থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে এসব অনিয়ম করেন। তখন রাসেল ও রুবেলের বাবা এম এ হাসেম নোয়াখালী-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন।

এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস মতিঝিল থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন কমিশনের তৎকালীন উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম। ২০১৯ সালের ২৬ অগাস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।

মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মঙ্গলবার রায় দেওয়া হলো।