Published : 22 Dec 2025, 06:46 PM
‘অনিয়মের’ মাধ্যমে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বর্তমানে কারাবন্দি ঢাকা-৮ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগে দুটি পৃথক মামলার অনুমোদন দেওয়ার তথ্য দিয়েছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দুটি মামলার মধ্যে একটিতে মেনন ও ১৩ জন শিক্ষকসহ ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অপর মামলায় তিনিসহ ৩৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মেননকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রথমে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং পরে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এ রাজনীতিক কারাগারে রয়েছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমাতে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে।
মেননের বিরুদ্ধে দুদক প্রথম যে মামলার অভিযোগপত্র তৈরি করেছে তাতে অভিযোগ করা হয়েছে, ‘অনিয়ম ও প্রতারণার’ আশ্রয়ে ‘উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিতভাবে’ নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করে কেবল পূর্বপরিচিত ১৩ জন প্রার্থীকে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্তে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
এতে আরও বলা হয়, “বিধি অনুযায়ী বিশেষ গভর্নিং কমিটির নিয়োগ দেওয়ার কোনো ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও তারা এ নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করে। নিয়োগ বোর্ডে কোনো ডিজি বা তার প্রতিনিধি এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক রাখা হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত এনটিআরসি সনদ ছাড়াই প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
“লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি নিয়োগ পরীক্ষা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই টেবুলেশন শিট প্রস্তুত ও নিয়োগপত্র বা যোগদানপত্র ইস্যু করা হয়।”
এসব ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির’ মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।
এ মামলার আসামি যারা
সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, স্কুলটির সাবেক অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সাবেক সদস্যসচিব অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল আলমগীর হোসেন, গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য মাহবুব উর রহমান, মো. আবুল হোসেন, মীর মোশাররফ হোসেন ও জহিরুল ইসলাম খান।
শিক্ষক শ্যামলী হোসেন, মাহমুদা সুলতানা, আয়শা সিদ্দিকা, নাসরিন আফরোজ, মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, তুহিন বিশ্বাস, মো. বজলুর রহমান, মো. রাসেল, মো. হারুন-অর-রশিদ খান, মো. মোশারফ হোসেন, উৎপল বিশ্বাস, এ কে এম মাসুদ রানা ও মো. আরিফুল ইসলাম।
দ্বিতীয় মামলার প্রস্তুত করা অভিযোগপত্রে বলা হয়, নিয়োগপত্রে এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুলের চাকরিবিধি প্রযোজ্য হবে এমন শর্ত থাকার পরও বিধিবহির্ভূতভাবে ৩১ জন শিক্ষককে প্রভাষক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
“এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুলের চাকরিবিধি অনুযায়ী স্কুল শাখার একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ সিনিয়র শিক্ষক পদ পর্যন্ত পদোন্নতি পেতে পারেন। প্রভাষক পদে পদোন্নতির কোনো বিধান না থাকলেও আলোচ্য ক্ষেত্রে তা করা হয়েছে, যা আইনগতভাবে স্বীকৃত নয়।”
‘অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রতারণার’ মাধ্যমে ক্ষমতার ‘অপব্যবহার’ করে এসব শিক্ষককে অবৈধভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।
এ মামলার আসামি যারা
রাশেদ খান মেনন, স্কুলটির সাবেক অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সাবেক সদস্যসচিব অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল আলমগীর হোসেন, গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য ডা. মাহবুব উর রহমান, মো. আবুল হোসেন, মীর মোশাররফ হোসেন, জহিরুল ইসলাম ও শ্যামলী হোসেন খানকে।
প্রভাষক মাহবুব আলম বাচ্চু, মো. গোলাম মোস্তফা, নিলুফার ইয়াসমিন, শাহ মো. জুয়েল রেজা, মো. আজগর আলী, গাজী আবুল বাশার, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আইনুন নাহার, মমতাজ বেগম, জন ফ্লেরিয়ান গোমেজ, নাসিমা বেগম, হিমানী সেন, কামরুন নাহার, মো. আব্দুল আজিজ, মনিরুজ্জামান, তাকসিনা আক্তার বানু, সাবিনা নাজনীন, মো. দাউদ ইকবাল, শাহীন বেগম, মো. সাজ্জাদ হোসেন, সুকান্ত চন্দ্র সাহা, তাহমিনা ইয়াসমিন, ইসমত আরা ফারুক, মারুফা সুলতানা, ফারহানা রহমান, হাবিবা আক্তার খানম, আযীমুন নাহার, সৈয়দা ফাহিমা বেগম, এইচ এম গিয়াস উদ্দিন ও রওশন আরা তানজিম।