Published : 29 Jan 2026, 02:39 PM
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ঢাকার বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারীরা বলেছেন, দশম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পাশাপাশি বিএসসি প্রকৌশলীদের নিয়োগের বিধান করার সুপারিশ করেছে সরকার দুই উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি।
তারা সে সুপারিশ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার পর ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ ঢাকার বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অধিদপ্তরে অবস্থান নেন।
পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম 'কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের' ঢাকা জেলা শাখার ব্যানারে এ কর্মসূচি চলছে।
ওই সুপারিশ প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার মধ্যরাতে প্রায় দুই ঘণ্টা রাজধানী তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড় অবরোধের পর বৃহস্পতিবার থেকে 'ইয়ার ফাইনাল' পরীক্ষা বর্জন করেছেন শিক্ষার্থীরা। সকালে তারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।
কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের দপ্তর সম্পাদক ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমরা অধিদপ্তর ভবনের করিডোরে অবস্থান নিয়েছি। আমরা কর্মকর্তাদের বের হতে দেব না যতক্ষণ না পর্যন্ত ওই সুপারিশ প্রত্যাহার হয়।
"আমরা ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা বর্জন করেছি। দলে দলে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা অধিদপ্তরের দিকে আসছেন।"
সাব্বির আরও বলেন, "কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের ছয় দাবির সুপারিশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব অধিদপ্তরের হলেও দেড় বছরে একটি দাবিও বাস্তবায়ন করেনি, এটি অধিদপ্তরের চরম ব্যর্থতা। ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পদ অধিদপ্তরেরই সৃষ্টি, অথচ উপসহকারী প্রকৌশলী পদ নিয়ে চলমান ষড়যন্ত্রে তারা নিশ্চুপ, এমন অভিভাবক আমরা চাই না।
"২০২১ সালের বিতর্কিত নিয়োগের মূল দায় অধিদপ্তরের। আজকের সংকটের মূলে সেই নিয়োগপ্রাপ্তরাই জড়িত—এ বিষয়ে সরকারকে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীরা স্বল্প সময়ে অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সফলতা পেয়েছে, অথচ পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা দেড় বছর আন্দোলন করেও বঞ্চিত—আমরা এই দ্বিমুখী নীতির জবাব চাই।"
উপসহকারী প্রকৌশলী পদে বরাবর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীরা নিয়োগের সুযোগ পেয়ে আসছেন জানিয়ে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ও কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের কার্যনির্বাহী সদস্য রমজান আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "গত বছর এ পদে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের সুযোগ চেয়ে আন্দোলন করেন বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এদিকে তাদের দাবির প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করে কারিগরি ছাত্র আন্দোলন। পরে সরকার বিষয়টি সমাধানে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকে সভাপতি করে এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে সদস্য করে ৮ সদস্যের কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির উপসহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ দেওয়ার বিধান করার সুপারিশ করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।
"আমরা কারিগরি ছাত্র আন্দোলন এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। কারণ উপসহকারী প্রকৌশলী পথটি বরাবরই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীদের জন্য ছিল। বিএসসি ডিগ্রিধারীদের এ পদে নিয়োগের সুযোগ আগেও ছিল না, আমরা চাই ভবিষ্যতেও যেন না হয়।"
কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের দাবি তুলে ধরে রমজান আলী আরও বলেন, "আমরা চাই, উপসহকারী প্রকৌশলী ও সমমান (১০ম গ্রেড) পদে ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং ও মনোটেকনোলজি (সার্ভেয়িং) থেকে পাস করা শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কেউ আবেদন করতে পারবে না এবং এই পদ সংরক্ষিত করতে হবে।
“প্রাইভেট সেক্টরে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা ছাত্রদের ন্যূনতম ১০ম গ্রেডের বেসিক অর্থাৎ ১৬০০০ টাকা মূল বেতন দিতে হবে।"