‘উপর থেকে পড়ে’ গৃহকর্মীর মৃত্যু, স্ত্রীসহ সাংবাদিক থানায়

প্রীতি উরাং নামের ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরী ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হকের বাসায় কাজ করতেন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকমৌলভীবাজার প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Feb 2024, 11:54 AM
Updated : 6 Feb 2024, 11:54 AM

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি আবাসিক ভবনের নবম তলা থেকে পড়ে এক কিশোরী গৃহকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

প্রীতি উরাং নামের ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরী ওই ভবনের বাসিন্দা ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হকের বাসায় কাজ করতেন। তার বাড়ি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মিত্তিঙ্গা গ্রামে, বাবার নাম লোকেশ উরাং।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ মেয়েটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সে সময় স্থানীয়রা ওই বাড়ির ফটকে জড়ো হয়ে ‘মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে’ অভিযোগ করে বিক্ষোভ শুরু করে।

পরে পুলিশ সৈয়দ আশফাকুল হক, তার স্ত্রী তানিয়া হকসহ ওই বাসা থেকে ছয়জনকে থানায় নিয়ে যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা থানাতেই ছিলেন।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি মাহফুজুল হক ভূঁইয়া বলেন, “প্রীতি নামের মেয়েটি নয়তলা থেকে পড়ে মারা গেছে। আশফাকুল হক ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক। আশফাকুল হক ও তার স্ত্রীসহ পরিবারের কয়েকজনকে থানায় আনা হয়েছে।”

ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে আশফাকুল হককে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

ডেইলি স্টার এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমাদের জ্যেষ্ঠ সহকর্মী ও নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হকের বাসায় এক কিশোরী গৃহ সহায়কের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। দুর্ভাগ্যজনক এ ঘটনার জন্য আমরা গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। তদন্তে কী পাওয়া গেল, তা জানার অপেক্ষায় আছি আমরা।”

ওই এলাকার এক খাবারের দোকানের বিক্রেতা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, শাহজাহান রোডে জেনিভা ক্যাম্প সংলগ্ন ওই ভবনের ওপর থেকে সকাল ৮টার দিকে মেয়েটি পড়ে যায়।

“ওই বাসায় আগেও এরকম ঘটনা ঘটছিল। এরপরে স্থানীয় লোকজন ‘মাইরা ফেলছে, বিচার চাই’ স্লোগান দিয়ে বাড়ির ফটকে জড়ো হয়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে, বাসার লোকজনকে আটক করে নিয়ে যায়।”

প্রীতির কাকা নগেন উরাং বলেন, মাস ছয়েক আগে প্রীতিকে রাজধানীতে গৃহকর্মীর কাজ পাইয়ে দেন তার মামা ফুলসাঁই। ঢাকার ওই বাসায় ফুলসাঁইয়ের ভাতিজিও থাকেন।

“আজ সকালে একটি গাড়ি এসে প্রীতির বাবা-মা ও তার মামা ফুলসাঁইকে ঢাকায় নিয়ে গেছে। কিন্তু মৃত্যুর কথা তখন বলেনি। স্থানীয় সাংবাদিকের কাছ থেকে খবর পেয়ে প্রীতির মৃত্যুর খবর আমাদেরকে দিয়েছে ইউপি মেম্বার ধনা বাউরি।”

মোবাইল ফোনে ফুলসাঁইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রীতি মারা গেছে।”

কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, এ প্রশ্ন করতেই তিনি কল কেটে দেন।

স্পষ্ট কোনো তথ্য জানতে পারেননি তার কাকা নগেনও। তিনি জানিয়েছেন, প্রীতিরা দুই বোন এক ভাই। চা বাগানে কাজ না থাকায় তাদের মা-বাবাকে বাইরে কাজ করতে হয়।

প্রীতির মৃত্যুর খবর শুনে স্থানীয় উরাং (ওরাঁও) সম্প্রদায়ের লোকজন ইউপি সদস্য ধনা বাউরির বাড়িতে জড়ো হন।

উরাং সম্প্রদায়ের মুরব্বি সাতলাল উরাং বলেন, “ঢাকা থেকে লোক এসে মেয়ে অসুস্থ বলে প্রীতির বাবা-মাকে নিয়ে গেছে। তারা কাউকে কোনো কিছু জানায়নি। কমলগঞ্জ থানা থেকে খোঁজ নেওয়ার পর প্রীতির মৃত্যুর খবর পেয়েছি।”

গত বছরের ৬ অগাস্টও একই ধরনের ঘটনা ঘটে আশফাকুল হকের বাসার। সেবার ৯ বছরের এক শিশু গৃহকর্মী লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হয়। ওই ঘটনায় নির্যাতনের অভিযোগ এনে আশফাকুল হক, তার স্ত্রী তানিয়া হক ও শিল্পী নামের আরেক নারীকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন শিশুটির মা।