প্রবীণ সাংবাদিক বেবী মওদুদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী সোমবার

এবার করোনাভাইরাস মহামারী ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তার মৃত্যুবার্ষিকীতে কোনো অনুষ্ঠান রাখা হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 July 2022, 04:24 PM
Updated : 24 July 2022, 04:24 PM

প্রবীণ সাংবাদিক, লেখক, নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক সাংসদ বেবী মওদুদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী সোমবার।

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১৪ সালের ২৫ জুলাই ৬৬ বছর বয়সে তিনি মারা যান। মৃত্যুর শেষদিন পর্যন্ত তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স এডিটর ছিলেন।

এবার করোনাভাইরাস মহামারী ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তার মৃত্যুবার্ষিকীতে কোনো অনুষ্ঠান রাখা হয়নি।

বেবী মওদুদের বড় ছেলে রবিউল হাসান অভী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকালে আমরা বনানীতে মা’র কবর জিয়ারত করব আর সন্ধ্যায় পারিবারিকভাবে মিলাদের আয়োজন করেছি।”

বেবী মওদুদ ১৯৪৮ সালের ২৩ জুন কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আবদুল মওদুদ ছিলেন একজন বিচারপতি। মায়ের নাম হেদায়েতুন নেসা। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।

তার আনুষ্ঠানিক নাম এ এন মাহফুজা খাতুন হলেও সবাই তাকে বেবী মওদুদ নামেই চিনতেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি ‘বেবী আপা’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।

তার স্বামী অ্যাডভোকেট মো. হাসান আলী ১৯৮৫ সালে মারা যান। তার দুই ছেলে রবিউল হাসান অভী ও শফিউল হাসান দীপ্ত।

১৯৬৭ সাল থেকে সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি। দৈনিক সংবাদ, বিবিসি, দৈনিক ইত্তেফাক, বাসস ও সাপ্তাহিক বিচিত্রায় দীর্ঘদিন কাজ করার পর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে যোগ দেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকার দিনগুলোতেই পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন বেবী মওদুদ।

১৯৬৭-৬৮ সময়ে রোকেয়া হল ছাত্রী সংসদের সদস্য হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭১ সালে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

নব্বইয়ের দশকে যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির দাবিতে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলনেও সোচ্চার ছিলেন তিনি।

নবম জাতীয় সংসদে বেবী মওদুদ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য হন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং লাইব্রেরি কমিটির সদস্য হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখিতে যুক্ত ছিলেন তিনি। লিখেছেন শিশু-কিশোরদের জন্যও। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ সম্পাদনাতেও তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।

তার শিশুতোষ বইয়ের মধ্যে রয়েছে দীপ্তর জন্য ভালোবাসা, টুনুর হারিয়ে যাওয়া, শান্তর আনন্দ, এক যে ছিল আনু, মুক্তিযোদ্ধা মাণিক, আবু আর বাবু এবং কিশোর সাহিত্য সমগ্র।

এছাড়া গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের নারী বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার, নিভৃত যতনে, রোকেয়া টাফ, আমার রোকেয়া, চিরন্তন প্রতিকৃতি রোকেয়া, শেখ মুজিবের ছেলেবেলা, মনে মনে (ছোট গল্প), দুঃখ-কষ্ট-ভালোবাসা (উপন্যাস), সষি পুষি টুষি (ছড়া) ও পাকিস্তানে বাংলাদেশের নারী পাচার তার উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা।

নারী উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০১৭ সালে মরণোত্তর রোকেয়া পদক পান বেবী মওদুদ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক