১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যৌথ তেল শোধনাগারে কুয়েতকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

বিনিয়োগ, জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা ও অভিবাসী কল্যাণে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।

যৌথ তেল শোধনাগারে কুয়েতকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রোববার তার সরকারি বাসভবন ‘যমুনায়’ সাক্ষাৎ করেন কুয়েতের নতুন রাষ্ট্রদূত আলি তুনইয়ান আবদুল ওয়াহাব হামাদাহ- ছবি পিআইডি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Mar 2025, 03:31 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:35 PM

যৌথভাবে বাংলাদেশে একটি অপরিশোধিত তেল শোধনাগার স্থাপনে কুয়েতকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

রবিবার ঢাকার প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনায়’ কুয়েতের নতুন রাষ্ট্রদূত আলি তুনইয়ান আবদুল ওয়াহাব হামাদাহ সৌজন্য সাক্ষাতে এলে প্রধান উপদেষ্টা এ আহ্বান জানান। 

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাক্ষাতকালে প্রধান উপদেষ্টা ও কুয়েতের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেন। 

সেখানে বিনিয়োগ, জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা ও অভিবাসী কল্যাণ-এই খাতগুলোতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশ ও কুয়েতের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে উৎসাহিত করেন।

“কুয়েত ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের বন্ধু। এখানে বিনিয়োগের অনেক সুযোগ রয়েছে, বিশেষ করে হালাল খাদ্য খাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বৈশ্বিক হালাল খাদ্যের বাজার বিশাল এবং আমি আশা করি তরুণদেরও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা হবে,” বলেন ইউনূস।

তিনি কুয়েতি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এসইজেড) বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। 

এ ক্ষেত্রে ৭ থেকে ৯ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলনকেও তাদের জন্য সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “সম্মেলনের সময় কুয়েত থেকে বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আসুন। এটি উভয় দেশের জন্য একটি বড় সুযোগ হবে।”

রাষ্ট্রদূত হামাদাহ কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ আহমেদ আব্দুল্লাহ আল-আহমদ আল-সাবাহ ও কুয়েতের জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।

তিনি বলেন, “আমরা একসাথে কাজ করার জন্য উন্মুখ।”

উভয় পক্ষ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে কুয়েত থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন।

প্রধান উপদেষ্টা কুয়েতে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের, বিশেষ করে নারী কর্মীদের জন্য আরও ভালো কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন মুহাম্মদ ইউনূস। কুয়েতে কর্মরত বাংলাদেশি সামরিক সদস্যদের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেনও তিনি।

বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের অংশীদারিত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা বাণিজ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”