Published : 22 Sep 2025, 03:55 PM
‘অবৈধ সম্পদ অর্জন’ ও ‘মানি লন্ডারিংয়ের’ অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
এছাড়া দুর্নীতির মামলায় হাজিরা দিয়ে প্রিজনভ্যানে করে কারাগারে যাওয়ার সময় 'বিজয়সূচক' চিহ্ন দেখিয়েছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।
সরকার পতনের পর গেল বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে আসাদুজ্জামান নূরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে নূরকে।
এর পাশাপাশি গত ৩০ জুলাই পাঁচ কোটি ৩৭ লাখ টাকার ‘অবৈধ সম্পদ অর্জন’ এবং ১৫৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকার বেশি ‘মানি লন্ডারিংয়ের’ অভিযোগে নূরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
এই মামলায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারি পরিচালক ফেরদৌস রহমান। এদিন শুনানিকালে নূরকবে আদালতে হাজির করা হয়।
এরপর নূরের পক্ষে তার আইনজীবী কাওছার আহমেদ জামিন চেয়ে আবেদন করেন। প্রসিকিউশনে উপসহকারি পরিচালক ফয়েজ উদ্দিন জানিয়েছেন জামিন শুনানির জন্য আগামী ১২ অক্টোবর দিন ঠিক করে দিয়েছেন বিচারক।
‘বিজয়সুচক’ চিহ্ন পলকের
সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক এবং তার স্ত্রী আরিফা জেসমিনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ছিল এদিন। তবে এদিন দুদক প্রতিবেদক দাখিল করতে পারেনি।
এজন্য একই আদালত আগামী ২৭ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন।
এদিন সকালে পলককে কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। দুপুর পৌনে দুইটার দিকে তাকে প্রিজনভ্যানে তোলা হয়। এসময় হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট, ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল পলকের।
ওই সময় আইনজীবীর সাথে কথা বলেন পলক। পাশে একজন পলককে বলেন, 'ভাই, আমার বাড়ি নাটোর।' পলক তাকে সালাম দিয়ে বলেন, 'ভালো থাকবেন।'
প্রিজনভ্যানে তোলার পর তার হাতকড়া, হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলে ফেলা হয়। তখন প্রিজনভ্যানের রড ধরে দাঁড়িয়ে থাকা পলক 'বিজয়সূচক' চিহ্ন দেখান। এরপর প্রিজনভ্যানটি আদালতপ্রাঙ্গণ ছেড়ে যায়।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং তার স্ত্রী আরিফা জেসমিনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে জুনায়য়েদ আহমেদ পলকের ২৪টি ব্যাংক হিসাবে ঘুষ, দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে ৩২ কোটি ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৩১৪ টাকা জমা হয়। এর মধ্যে ২৯ কোটি ৮৪ লাখ ৭২ হাজার ৯৫ টাকা তুলে নেওয়া হয়। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই টাকা লেনদেন হয়েছে।
গত বছরের ১৫ আগস্ট পলককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে বিভিন্ন সময় হত্যা, হত্যাচেষ্টা মামলার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে গত ৬ ফেব্রুয়ারি তাকে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এদিকে আসাদুজ্জামান নূরের মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নূর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৫ কোটি ৩৭ লাখ ১ হাজার ১৯০ টাকার ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ’ অর্জন করেছেন এবং তা নিজের দখলে রেখেছেন। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১৯টি হিসাবে তার অ্যাকাউন্টে ১৫৮ কোটি ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৮ টাকার ‘সন্দেহজনক’ লেনদেন হয়েছে।
এ লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুদক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
দুদকের মামলার তথ্য অনুযায়ী, নূরের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ৮৫ কোটি ৭২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৩ টাকা জমা এবং ৭৩ কোটি ৫ লাখ ৮১ হাজার ৩০৫ টাকা উত্তোলন হয়েছে। এসব লেনদেনের উৎস ‘অস্পষ্ট’।