Published : 28 Apr 2026, 01:03 AM
ক্যাম্পাসে ‘গুপ্তভাবে মব ক্রিয়েট’ করে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা-৩ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম।
সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ছাত্রছাত্রীরা অনেক সময় নষ্ট করে ফেলেছেন, তারা আর চান না ক্যাম্পাস অশান্ত হোক। তারা চান ক্যাম্পাস শান্ত থাকুক। আর কোনো গুপ্ত রাজনীতি তারা দেখতে চান না। তারা চান, প্রকাশ্যে সবকিছু হবে। উন্মুক্তভাবে রাজনীতির চর্চা হবে।”
এ দিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, জাতীয় সনদ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানানো নিয়েও কথা বলেন সরকারি এবং বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য।
ছাত্র রাজনীতির বিষয়ে সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি ‘রূপরেখা’ তৈরি করা যেতে পারে মন্তব্য করে হুইপ রকিবুল বলেন, “যদি সংসদ মনে করে ক্যাম্পাসে কী ধরনের রাজনীতি চলবে, সেটা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
“আমরা চাই ক্যাম্পাস শান্ত থাকুক। কোনোভাবেই আমাদের রক্তের বিনিময়ে যে ক্যাম্পাস আমরা ফিরে পেয়েছি, এই ক্যাম্পাস আমরা আর নষ্ট করতে চাই না। আর চাই না কোনো মব ক্রিয়েট করে ফ্যাসিস্ট আমলের জামানায় ফিরে যেতে। আমরা চাই, মেধার ভিত্তিতে আগামী দিনের ছাত্রসমাজ গড়ে উঠুক, দেশের নেতৃত্ব গড়ে উঠুক।”
নিজের নির্বাচনী এলাকা খুলনা-৩ আসনের শিল্পাঞ্চলের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য, এক সময় খুলনার শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এলাকা এখন ‘মৃতপ্রায়’। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ আন্তরিকভাবে কাজ করলে, ওই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনে সব দলের সমর্থন ছিল: সাকি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্ররা সামনে এসেছিল, কিন্তু সেই আন্দোলনকে সব রাজনৈতিক দল সমর্থন করেছিল।
তিনি বলেন, “ইতিহাসের রেকর্ড হিসেবে ৫ জুলাই আমরা পরিষ্কারভাবে এই আন্দোলনের প্রতি আমাদের সমর্থন ঘোষণা করেছি। ৬ জুলাই বিএনপি মহাসচিব প্রেস কনফারেন্স করে এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন। এক পর্যায়ে ফ্যাসিবাদীরা বলতে শুরু করেছিল, এটি বিরোধী দলের আন্দোলন এবং বিরোধী দল তা হাইজ্যাক করছে। তখন কৌশলগত কারণে রাজনৈতিক দলগুলোকে এমনভাবে অবস্থান নিতে হয়েছিল, যাতে ফ্যাসিবাদীরা পুরনো কৌশলে আন্দোলন ধ্বংস করতে না পারে।
“আমি ব্যক্তিগতভাবে তার সাক্ষ্য দিতে পারি, বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল যে, আমাদেরকে এমনভাবে অবস্থান নিতে হবে, যেন ফ্যাসিবাদীরা পুরনো কৌশলে আন্দোলন ধ্বংস করতে না পারে।”
জুলাই আন্দোলনে নিহতদের সংখ্যা নিয়ে ‘বিতর্ককে’ অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে সাকি বলেন, গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষ থেকে ২০২৩ সালের ২৮ জুলাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমরা কখনোই বলিনি যে, আমরা যা বলেছি সেটাই বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা সবসময় বলেছিলাম, একটা ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া এই ট্রানজিশন এগোতে পারবে না।”
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি
রংপুর-৪ আসনে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, “শুধুমাত্র হাসিনা বা আওয়ামী লীগই সমস্যা না, বাংলাদেশের সংবিধানের মধ্যে ফ্যাসিবাদের যে উপাদানগুলো আছে, যেগুলো একজনকে হাসিনা করে তোলে, আওয়ামী লীগ করে তোলে, সেই উপাদানগুলোকে পরিবর্তন করতে পারাটাও আমাদের লক্ষ্য।”
বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব এখন ‘আধারে পড়ে গেছে’ মন্তব্য করে তার ভাষ্য, রাষ্ট্রকাঠামোর ‘ঘুণে ধরা ব্যবস্থা’ সংস্কার করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।
বাংলাদেশের আঞ্চলিক অবস্থান নিয়েও সতর্ক করেন আখতার। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এমন এক অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে অনেক বাস্তবতার সঙ্গে দেশ জড়িত। বাংলাদেশে শরণার্থীর ঢল নামানো হতে পারে, এমন চক্রান্ত আশপাশে চলছে। প্রতিবেশী দেশ থেকেও মুসলমানদের বের করে দিয়ে বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে ঢল নামানো হবে না, তার নিশ্চয়তা নেই।”