০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

চিকিৎসক সাবিরা কেন খুন হয়েছেন, জানা যায়নি ৩ বছরেও

কলাবাগানের একটি ফ্ল্যাট থেকে ২০২১ সালের ৩০ মে সাবিরার লাশ উদ্ধার করে তার শরীরে ধারাল জখম ও পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন পাওয়ার কথা জানিয়েছিল পুলিশ।

আদালত প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2024, 11:27 AM

Updated : 10 Sep 2026, 12:07 PM

ঢাকার কলাবাগানের বাসা থেকে গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক কাজী সাবিরা রহমান লিপির লাশ উদ্ধারের পর তিন বছর পার হলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

আদালতে বারবার তারিখ পড়লেও তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারছেন না তদন্ত সংস্থা পিবিআই। তদন্তে নেমে সাবিরার স্বামী এ কে এম সামছুদ্দিন আজাদকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ করলেও পুলিশ ‘সদুত্তর’ পায়নি। তাকে সন্দেহের তালিকায় রেখেই তদন্তের কথা জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. জুয়েল মিঞা।

সবশেষ এই মামলায় গত ১৬ মে প্রতিবেদনের দাখিলের তারিখ ছিল। সেদিন তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন না দেওয়ায় ঢাকার মহানগর হাকিম শাকিল আহম্মেদ ১ জুলাই নতুন তারিখ রাখেন। এ নিয়ে ২৯ দফা প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এস আই সাফায়েত আলী।

কলাবাগান প্রথম লেইনের একটি বাড়ির চার তলার ফ্ল্যাট থেকে ২০২১ সালের ৩০ মে সাবিরার লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন ৪৭ বছর বয়সী এই চিকিৎসক গ্রীন লাইফ হাসপাতালে কাজ করতেন। তার শরীরে ধারাল জখম এবং পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন পাওয়ার কথা পুলিশ জানিয়েছিল।

এ ঘটনায় ১ জুন সাবিরার ফুফাতো ভাই রেজাউল হাসান মজুমদার কলাবাগান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারে কাউকে আসামি করা না হলেও তদন্তে নেমে ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল সাবিরার স্বামীকে শান্তিনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। এখন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন তিনি।

তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. জুয়েল মিঞা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখনও তার স্বামী সাসপেক্ট (সন্দেভাজন) হিসাবে রয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যা সম্পর্কে কোনো সদুত্তর মেলেনি। হত্যার কারণের কোন তথ্য-উপাত্ত আমরা পাইনি। তাই এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে মনে হচ্ছে তাকে (সাবিরার স্বামী) আবারো জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।”

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. জামাল হোসেন ভুইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাবিরার স্বামী সামছুদ্দিন আজাদ অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার। তার এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সম্ভাবনা নেই।

“হত্যার ১১ মাস পরে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা মামলার অভিযোগপত্র নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। পুলিশ যেভাবে তদন্ত করে আমরা সেটা মেনে নেব।”

এ বিষয়ে মামলার বাদী রেজাউল হাসান মজুমদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি।

মামলার দীর্ঘসূত্রতার নিয়ে ফৌজদারি মামলার অভিজ্ঞ আইনজীবী আমিনুল গণী টিটো বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগে ফৌজদারি মামলার তদন্তের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া ছিল ১২০ দিন। কিন্তু সে আইন সংশোধিত হয়ে তদন্ত সময়সীমা উঠে গেছে। সে সুযোগ নিচ্ছেন তদন্ত কর্তারা।”

তার ভাষ্য, “তদন্ত না হলে তদন্তের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে আদালতের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া জরুরি। তদন্ত ও বিচার যতটা সম্ভব দ্রুত করা না হলে আইনের শাসন নিশ্চিত করা যায় না।”

পুরনো খবর-

চিকিৎসক সাবিরা হত্যার ‘কূল কিনারা নেই’