Published : 19 Jul 2025, 07:50 PM
সংবাদপত্রের ‘পাঠককুলের’ একটা অংশ ‘উগ্র ও আগ্রাসী’ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
তিনি বলছেন, এরা সাংবাদিকতার ‘নতুন প্রতিপক্ষ’; তাদের কীভাবে আগামী দিনের সাংবাদিকতা মোকাবেলা করবে, সেটা গভীরভাবে চিন্তা করা দরকার।
শনিবার ঢাকায় ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) প্রধান কার্যালয়ে এক প্রকাশনা উৎসবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিক শওকত হোসেন মাসুমের লেখা 'কেলেঙ্কারির অর্থনীতি' গ্রন্থের প্রকাশনা উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
দেবপ্রিয় বলেন, “স্বৈরাচারী যুগে আলো জ্বালিয়ে রাখতে অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকরা বড় ভূমিকা রেখেছেন, এটা স্বীকার করতেই হবে। এটা সব পত্রিকার জন্য সত্য; আমি নাম ধরে ধরে বলতে পারি, তারা কীভাবে এটা করেছে। কিন্তু তারা দুই ধরনের প্রতিপক্ষ মোকাবিলা করে এটা করেছে।
“প্রথমত, তারা মোকাবিলা করেছে সরকারকে। স্বৈরাচারী সরকারের বিভিন্ন ধরনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ; উর্দি পাড়া; উর্দি ছাড়া; তারা এগুলো মোকাবিলা করেছে।"
সংবাদমাধ্যম মালিকরা সাংবাদিকদের দ্বিতীয় প্রতিপক্ষ ছিল মন্তব্য করে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, "যেহেতু তারা দোসর হয়েছিল, যেহেতু তারা পুঁজিবাদের বড় চামচা ছিল, সেহেতু তারা তাদের নিজস্ব সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে। কতদিন শুনেছি বিভিন্ন লোকের কাছে, দাদা রিপোর্টটা লিখে রেখে দিয়েছি, ছাপছে না তো।
“ওনারা দ্বিতীয় শক্তির সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। এই দুই শক্তি তারা মোকাবেলা করেছে। আজ এই ঘরের ভেতরেই অনেকে আছেন, যারা তার উজ্জ্বল উদাহরণ।”
দেবপ্রিয় বলেন, "আমার ভয় হল, এই দুই শক্তি তো যায়নি, উপরন্তু তৃতীয় আর একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে।
"আমার ভয় তৃতীয়টা নিয়ে। তৃতীয়টা হলো, আগে পাঠককুল এতবেশি উগ্র ও আগ্রাসী ছিল না। এখন পাঠককুলের একটা অংশ এত উগ্র ও আগ্রাসী হয়েছে যে, আপনার প্রতিষ্ঠানই বন্ধ করে দেওয়া এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করছে।”
দেবপ্রিয় মনে করেন, “এ সমস্যা কিন্তু আগে সেভাবে ছিল না। এই যে আগ্রাসী একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী কিন্তু খুবই উচ্চস্বর, যারা নৈতিক খবরদারি করতে চান, এইটা নতুন প্রতিপক্ষ। এই তৃতীয় শক্তিকে কীভাবে আগামী দিনের সাংবাদিকতা মোকাবেলা করবে, এইটা আমাদের খুব গভীরভাবে চিন্তা করার আছে।"
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শারমিন্দ নীলোর্মি।
‘কেলেঙ্কারির অর্থনীতি’ বইটি সম্পর্কে ইউপিএল বলছে, “এতে শওকত হোসেন মাসুম যেন বাংলাদেশের কয়েক দশকের ইতিহাস লিখেছেন অর্থনীতির ভাষায়।
“অর্থনীতি কেলেঙ্কারিময় হলে রাষ্ট্র ও সমাজ কতটা বিপদগ্রস্ত হয়, কেলেঙ্কারির অর্থনীতি বইটি পড়লে সেটি বিশদে বোঝা যাবে। রাজনৈতিক শক্তিকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে খেলাপি ঋণ ও অবৈধ অর্থের যে প্রতিপত্তি তৈরি করা হয়েছে, এবং ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুণ্ঠনের মাধ্যমে যে বিশাল লুটেরা ধনিকশ্রেণি গড়ে উঠেছে—এই গ্রন্থটি তারই একটি প্রামাণিক বিবরণ।”