Published : 18 May 2026, 09:46 PM
আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে বিশ্ব নগর ফোরামের ত্রয়োদশ অধিবেশনে অংশ নিয়ে পরিকল্পিত নগরায়ন, সাশ্রয়ী আবাসন, জলবায়ু সহনশীল বিভিন্ন উন্নয়ন প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল।
জাতিসংঘের মানব বসতি কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক অ্যানাক্লডিয়া রসব্যাকের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে রোববার ফোরামের ত্রয়োদশ অধিবেশন (ডব্লিউইউএফ১৩) শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর অধিবেশনে ‘নতুন নগর এজেন্ডা (এনইউএ)’ বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয়।
রাজউকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফেরদৌসী বেগমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এই অধিবেশনে অংশ নেয়। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ঠ-এসডিজির সঙ্গে সামজ্ঞস্য রেখে পরিকল্পিত নগরায়ন, সাশ্রয়ী আবাসন, জলবায়ু সহনশীল বিভিন্ন উন্নয়ন প্রচেষ্টার কথা তারা তুলে ধরেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আব্দুল আউয়াল, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়াও রয়েছেন এই প্রতিনিধি দলে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং ইন্দোনেশিয়াসহ ৫৫টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অধিবেশনে যোগ দিয়ে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিস্থাপক এবং মানবকেন্দ্রিক নগর গড়ে তোলার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বেশ কিছু অগ্রাধিকার উত্থাপন করা হয়। সারাদেশে পরিকল্পিত নগর বৃদ্ধি এবং জনসংখ্যা ও সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাংলাদেশে নতুন প্রণীত ‘স্থানিক পরিকল্পনা আইন’ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, পূর্বাচল নতুন শহর, ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প এবং উত্তরা তৃতীয় পর্বের মত বৃহৎ উদ্যোগগুলো ঢাকার ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করার পাশাপাশি আধুনিক ও সুপরিকল্পিত নগর এলাকা গড়ে তুলতে অবদান রাখছে।
সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশের নগর নীতির আওতায় সবার জন্য আবাসন একটি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বজায় রয়েছে। সরকারের টঙ্গী দত্তপাড়া ও কড়াইল প্রকল্পসহ বস্তি উন্নয়নমূলক উদ্যোগের পাশাপাশি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে ‘ফ্লোর এরিয়া রেশিও’ প্রণোদনার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবনে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়, সরকারি আবাসন কর্মসূচি, স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো এবং টেকসই নির্মাণে সহায়তাকারী অংশীদারত্বের মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল নগর পরিকল্পনার প্রতি বাংলাদেশ তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এছাড়া, বাসযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে ‘পুরান ঢাকা পুনরুজ্জীবন প্রকল্প’ উপস্থাপন করা হয় অধিবেশনে।
কক্সবাজারে ভূমির অবক্ষয় রোধের প্রচেষ্টাসহ গোটা দেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসন, নগর স্থিতিস্থাপকতা এবং টেকসই উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে ‘ইউএন-হ্যাবিট্যাট’, ‘বিশ্ব ব্যাংক’, ‘ইউএনওপিএস’ এবং ‘ইউএনএসক্যাপ’ -এর ধারাবাহিক সহায়তার কথা প্রতিনিধিদল কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করে।