Published : 17 Dec 2025, 06:46 PM
সরু গলির ভেতর একতলা পাকা বাড়ি, তার ওপর বাঁশ-টিন-কাঠের তিন-চার তলা ঘর করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
পুরান ঢাকার ইসলামবাগে এসব ঘর একইসঙ্গে বসবাস ও কারখানা বা মালামাল রাখার জন্য গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেখানে আগুন নেভাতে গিয়ে বরাবরের মতই বিপত্তিতে পড়লেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. সালেহ উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, “এখানে যে রকমভাবে ভবন করা হয়েছে, এগুলো বিল্ডিংয়ের কোনো জাতেই পড়ে না।”
বুধবার বেলা দেড়টার দিকে ইসলামবাগে চেয়ারম্যানঘাট এলাকার প্লাস্টিকমন্ডিতে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। একে একে সেখানে আগুন নেভাতে যায় ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট।
বিকেল ৪টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সার্বিক পরিস্থিত তুলে ধরেন উপপরিচালক সালেহ উদ্দিন।

তিনি বলেন, "আপনারা এখানকার ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট গুলো একটু দেখুন। রাস্তাগুলো এত সরু যে একটা মানুষ ঠিকমতো হেঁটে যেতে পারে না। এসব কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের অনেক ঝুঁকি তৈরি হয়।
“এসব ঝুঁকি আর প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে আমরা ৪টার দিকে আগুনটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি। তবে আগুন এখনো পুরোপুরি নেভেনি। ভেতরে আমাদের ফায়ার ফাইটাররা কাজ করছে।”
তখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য মেলেনি জানিয়ে তিনি বলেন, “আগুন নেভার পর আমরা পুরো এলাকা সার্চ করব। তারপরে বলতে পারব আসলে কী কারণে আগুনটা লেগেছিল। আর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে একটা তদন্ত কমিটি করা হবে।"
লালবাগের প্লাস্টিক ব্যবসা কেন্দ্রে মোটামুটি প্রতি বছরই এরকম কোন ফ্যাক্টরি বা গুদামে আগুন লাগছে। প্রতিবারই তদন্ত কমিটি হচ্ছে। সমস্যাগুলো উঠে আসছে, কিন্তু সমাধান হচ্ছে না।
বুধবার যেখানে আগুন লেগেছে, সেটা আবাসিক এলাকা না বাণিজ্যিক–এমন প্রশ্নে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা সালেহ উদ্দিন বলেন, "আপনি আমার চোখ দিয়ে দেখেন, সেইফটির চোখ দিয়ে দেখেন, আবাসিক এলাকার চোখে দেখেন...।

“আমরা ঢাকায় থাকি। এটা কি আবাসিক এলাকা না বাণিজ্যিক এলাকা? এগুলো আসলে কী ধরনের বিল্ডিং? নিচতলায় ইটের গাঁথুনি দিয়ে পাকা করা, আর ওপরে টিন দিয়ে চারতলা পর্যন্ত উঠানো হয়েছে। কোন মানুষ, কোন বিবেক নিয়ে এই ধরনের বিল্ডিং তৈরি করে এবং ভাড়া দেয় তা আমরা বুঝি না।”
তিনি বলেন, “এগুলো বিল্ডিংয়ের কোনো শ্রেণিতেই পড়ে না। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড এর কথা যদি বলি, যদি সেইফটির কথা বলি, তাহলে বলতে হয় এগুলো বিল্ডিংয়ের কোনো জাতেই পড়ে না। এগুলোতে যারা বসবাস করছেন, তাদের অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই এখানে থাকতে হয়।"

এখানকার প্লাস্টিকের কারখানাগুলো সবই অবৈধ। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, "আসলে এগুলা প্লাস্টিকের কারখানা না গুদাম, নাকি দোকান, না খেলনার দোকান এগুলো কিছুই ডিফাইন করা যাবে না। কোথাও প্লাস্টিকের দানা বিক্রি করে, কোথাও পলিথিন কেটে কেটে কিছু জিনিসপত্র তৈরি করে–এগুলোকে আপনি দোকান, গুদাম বা ফ্যাক্টরি কোনো ক্যাটাগরিতেই ফেলতে পারবেন না।"
ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক বলেন, “সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কাছের ফায়ার স্টেশন লালবাগ থেকে ফায়ার সার্ভিসের দল এখানে আসে। এখানে আসার পর আগুনের ভয়াবহতা দেখে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেসেজ দিলে আশপাশের পলাশী, সিদ্দীক বাজার, সদরঘাট ফায়ার স্টেশন থেকে ইউনিট এখানে মুভ করানো হয়। ছয়টা স্টেশনের মোট ১১টা ইউনিট এখানে কাজ করেছে।
“অগ্নি নির্বাপন শেষে আমাদের সার্চ টিম কাজ করবে, এরপরে আসলে আমরা বলতে পারব কেউ হতাহত হয়েছেন কিনা।”