লাশ নিয়ে শাহবাগ থানায় হামলা, সাউন্ড গ্রেনেড-গুলির শব্দে ছত্রভঙ্গ
এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এতে আন্দোলনকারী ছত্রভঙ্গ হয়ে শাহবাগ ত্যাগ করেন।
অসহযোগকে ঘিরে সংঘর্ষের মধ্যে নিহতদের লাশ নিয়ে শহীদ মিনার থেকে মিছিল শেষে রাজধানীর শাহবাগ থানায় আক্রমণের চেষ্টা চালায় আন্দোলনকারীরা। পরে সাউন্ডগ্রেনেড ও গুলি ছুঁড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ।
রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তিনটি লাশ নিয়ে মিছিল করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যায় আন্দোলনকারীরা। লাশ তিনটি তারা শহীদ মিনারে রাখেন কিছুক্ষণ। পরে সোয়া ৬টার দিকে আন্দোলনকারীরা সেগুলো কাঁধে নিয়ে মিছিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে শাহবাগে যান।
সেখানে শাহবাগ থানায় আক্রমণের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে সাউন্ডগ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও বাঁধে।
এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এতে আন্দোলনকারী ছত্রভঙ্গ হয়ে শাহবাগ ত্যাগ করেন।
তাদের কেউ টিএসসি হয়ে শহীদ মিনার, কেউ কাঁটাবন ও মৎস্যভবন এলাকায় দিয়ে শাহবাগ ত্যাগ করেন।
এর আগে বিকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আন্দোলনকারীদের শাহবাগ ত্যাগ করতে নির্দেশনা দেন।
তবে আন্দোলনকারীদের অনেকে শাহবাগ ছাড়লেও একটি বড় অংশকে শহীদ মিনার, টিএসসির রাজু ভাস্কর্য এলাকায় অবস্থান করতে দেখা যায়। পরে এদের একটি অংশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তিনটি লাশ নিয়ে মিছিল করে। পরে শাহবাগে গিয়ে থানায় হামলার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে।
সাউন্ডগ্রেনেড ও ফাঁকা গুলির পর আন্দোলনকারীদের এ অংশ ছত্রভঙ্গ হয়ে আবার শহীদ মিনার এলাকায় চলে যায়। সেখানে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অবস্থানের পর ধীরে ধীরে তারা শহীদ মিনার ত্যাগ করেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবি আদায়ে অসহযোগকে ঘিরে এদিন সংঘর্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে গুরুতর আহত সাতজনকে ঢাকার দুই হাসপাতালে আনার পর মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
