১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চাহিদা কম, তবুও গ্রামে বিদ্যুতের ভেলকি কেন?

ঈদে যারা গ্রামে গেছেন বিদ্যুতের ‘এই আছে-এই নেই’ অবস্থায় তারা পড়েছেন বিড়ম্বনায়। অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলো বলছে, চাহিদা ও উৎপাদনে ফারাক নেই। তাহলে ঘাপলা কোথায়?- প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের।

চাহিদা কম, তবুও গ্রামে বিদ্যুতের ভেলকি কেন?
ফাইল ছবি

হামিমুর রহমান ওয়ালিউল্লাহ

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Mar 2026, 01:38 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:13 PM

“গ্রামে পুরনো দিনের ঈদ উপভোগ করছি। দুপুর থেকে বিদ্যুৎবিহীন আছি। ইফতারের সময় অনেকদিন পর মোম কিনেছিলাম। মোমের আলো খারাপ লাগল না!

“চার্জ শেষ হয়ে মোবাইল বন্ধ হওয়ার পথে। এর আগে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুতের নড়িয়া অঞ্চলে ডিজিএমকে ফোন দিয়েছিলাম। তিনি ঈদের ছুটিতে আছেন, অভিযোগ কেন্দ্রে কল দিতে বললেন। কিন্তু সেই ফোন কেউ ধরে না! 

“এবারের ঈদে যে সেবার ভোগান্তি হবে, তা বোঝা যাচ্ছে।”

স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ-ফুর্তিতে ঈদ উদযাপনে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিড়ম্বনায় নাকাল হয়ে মজার ছলে তিক্ত এ অভিজ্ঞতার কথা ফেইসবুকে তুলে ধরলেন রাজধানী ঢাকায় সাংবাদিকতা করা শরীয়তপুরের আতাউর রহমান।

‘চান রাতে’ তার দেওয়া এ পোস্টের অভিজ্ঞতা মিলে গেল দেশের আরেক প্রান্তের কুমিল্লায় বুড়িচংয়ের একজনের সঙ্গে।

ঈদের ছুটি কাটাতে বুড়িচংয়ের শিকারপুর গ্রামে যাওয়া স্মৃতি দাশের স্মৃতিতেও গ্রামের বিদ্যুৎ বিড়ম্বনায় ভোগার সময়টি সুখকর হল না।

গ্রামে পৌঁছান তিনি ঈদের আগের দিন। বলেন, “আজকে বাড়িতে এসেছি। এখন পর্যন্ত এক ঘণ্টার জন্যও ঠিকমত বিদ্যুৎ পাই নাই।”

শহুরে জীবনে অভ্যস্ত ছেলে মেয়েদের নিয়ে বিদ্যুৎহীন এমন বিড়ম্বনার কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলছিলেন স্মৃতি দাস।

তাদের মতো অনেকেই বিদ্যুৎ না থাকার ভোগান্তিতে পড়ার কথা বললেন এবারের ঈদ। তবে বৃষ্টি ও ঝড়ের পর শীতল বাতাসে তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় চৈত্রের এ সময়ে নগর থেকে গ্রামে যাওয়া লাখো মানুষ ভ্যাপসা গরম থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছেন।

তবে অনেক গ্রামে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ঠিক থাকার কথাও জানা গেছে। কেউ আবার বিদ্যুৎ থাকা বা না থাকার মাঝের সময়টুকুকে ‘স্বাভাবিকভাবেই’ দেখছেন।

ঝড়-বৃষ্টির বদৌলতে তাপমাত্রা কমার পাশাপাশি ঈদের লম্বা ছুটিতে শিল্প কারখানা বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের উৎপাদন ও চাহিদা নিম্নমুখী হয়েছে। তবুও গ্রামে চলছে বিদ্যুতের ভেলকি- অনেকক্ষণ পর আসছে আর অল্প সময় পরই চলে যাচ্ছে।

তবে বরাবরের মত শহর ও নগরীগুলোতে বিদ্যুতের এমন যাওয়া-আসা নেই। এক দেশে দুই চিত্র নিয়ে এ ক্ষোভ অবশ্য অনেক দিনের।

‘সংকট নেই’ কাগজে কলমে

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) দৈনন্দিন তথ্য বলছে, হঠাৎ বৃষ্টিতে বিদ্যুতের চাহিদা শীতের সময়কার অবস্থায় নেমেছে। ঈদের দুদিন আগে চাহিদা ১১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি থাকলেও তা গত দুই-তিন দিনে গড়ে ছয় থেকে সাত হাজার মেগাওয়াটে নেমেছে। উৎপাদনও হচ্ছে চাহিদার সমপরিমাণ বিদ্যুৎ।

পিডিবির সচিব (কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের দপ্তর) মুহ. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, বিদ্যুতের হালনাগাদ তথ্যে উৎপাদন ও বিতরণে কোনো সংকট নেই।

কর্মকর্তারা বলছেন, এখন যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে তা কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রেখেই মেটানো সম্ভব। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গ্যাস সাশ্রয় করতে গিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখার দরকার নেই। এখন যে উৎপাদন হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে অর্ধেকের মত তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি আসছে গ্যাসচালিত কেন্দ্র থেকে।

বৃষ্টি ও আবহাওয়াজনিত কারণে বিদ্যুৎ না থাকার কিছু সমস্যা থাকলেও উৎপাদন বা বিতরণে কোনো সমস্যা দেখছেন না দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

তাহলে লোডশেডিং না থাকার সরকারি হিসেবের সঙ্গে শহর ও নগরের বাইরে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকার চিত্র মিলছে না কেন? এমন প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের। 

রাজধানী ঢাকারও কিছু অংশে গত দুদিনে লোডশেডিংয়ের তথ্য মিলেছে। বিদ্যুতের সংকট না থাকলে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি গ্রাহকরা কেন হচ্ছেন সেই আলোচনা চলছে।

এর কারণ হিসেবে পিডিবিসহ অন্যান্য বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, দেশব্যাপী দুর্বল বিতরণ ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন। 

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

‘যেখানে বিদ্যুৎ মাঝে মাঝে বেড়াতে আসে’

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার বেশির ভাগ এলাকা পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডের (আরইবি) আওতাধীন।

ঈদ করতে গ্রামে যাওয়া মানুষের প্রকৃত অভিজ্ঞতা এবং সরকারি হিসাবের পাল্টাপাল্টি কথার মধ্যেই কুমিল্লার একাধিক ব্যক্তি বিদ্যুৎ নিয়ে তাদের তিক্ততার কথা তুলে ধরলেন।

রাশিদ আহাম্মেদ নামে একজন ফেইসবুকে লেখেন, “কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বলীঘর গ্রাম, যেখানে বিদ্যুৎ মাঝে মাঝে বেড়াতে আসে।

“অতিরিক্ত গরম হলেও বিদ্যুৎ থাকে না, আবার ঝড় বৃষ্টি হলেও বিদ্যুৎ থাকে না। অতিথি হিসেবেই আসা যাওয়ার মধ্যে থাকে। গত ৩ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই বললেই চলে। যেটুকু ছিল সেটুকুও সর্বসাকূল্যে ২-৩ ঘণ্টা।”

দাউদকান্দিরও প্রায় একই রকম চিত্র তুলে ধরলেন হাবিব ভুঁইয়া। ঢাকার এ ব্যবসায়ী বললেন, “কুমিল্লাতে সারাদিন বিদ্যুৎ ছিল না। কয়েকবার ১০ বা ১৫ মিনিট এর জন্য আসছে।"

একই রকম ভাষ্য মিলেছে অন্য জেলায় ঈদ করতে যাওয়া ব্যক্তিদের থেকেও। সাংবাদিক আসিফ ইসলাম শাওন গেছেন বরিশালের গৌরনদীতে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, “খুব খারাপ। আজকে দুপুর থেকে ছিল না। এখন আছে। মাঝখানে কয়েকবার দুই চার মিনিটের জন্য এসেছিল।”

টাঙ্গাইল উপজেলার শাহজানীর মমিনুল ইসলাম সবুজ বললেন, "গতকাল (বৃহস্পতিবার) সারাদিন বিদ্যুৎ ছিল না। সন্ধ্যার পরে এসেছে।"

ঢাকার কাছের আরেক জেলা গাজীপুরের শ্রীপুরের কাওরাইদের ঈদের আগের দিনজুড়ে বিদ্যুৎ না থাকার কথা বলছেন দেলোয়ার জুয়েল। চার্জ দিতে না পারায় ঠিকঠাক ফোনও চালাতে পারছেন না কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করা এ চাকুরে।

দুই দশক ধরে ইউরোপে থাকা ইমাম হোসেন এবারই প্রথম পরিবারের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে এসেছেন গোপালগঞ্জে। ঈদের দিনেও ঠিকঠাক না থাকায় গরমে থাকার অভ্যাস না থাকায় তিনি অনেকটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

সবার খোঁজখবর নিতে যে মোবাইলে বা অনলাইনে যোগাযোগ করবেন তাতেও বেগ পেতে হচ্ছে।

ঈদের দিন দুপুরে কথা হলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “সকাল থেকে বিদ্যুৎ নাই। এখন বৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু কী বলব! এখানে তো বাতাস শুরু হওয়ার আগেই বিদ্যুৎ চলে যায়। গতকাল সারাদিন বিদ্যুৎ ছিল না, সন্ধ্যায় এসেছে। আজ আবার নাই।

“আসলেও আসে কেবল আধাঘণ্টার জন্য। ফোন দিতে পারছি না কাউকে। চার্জ দিতে পারছি না।”

রাজধানীতেও বাড়তি লোডশেডিংয়ের তথ্য মিলেছে। মুগদার বাসিন্দা ভ্রমণ গাইড মেহেদী হাসান শুভ বলেন, রোববার সারাদিন ধরে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।

ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশের তেল ও গ্যাস আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। গত ১২ মার্চ এ প্রণালিতে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ময়ূরী নারীতে হামলায় আগুন ধরে যায়। ছবি: রয়টার্স

ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশের তেল ও গ্যাস আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। গত ১২ মার্চ এ প্রণালিতে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ময়ূরী নারীতে হামলায় আগুন ধরে যায়

‘স্বাভাবিক’ বলছেন কেউ কেউ  

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া যাওয়া নূরুদ্দীন বলেন, “মঙ্গরবার গ্রামে আসছি। বাড়ি এসে মুটামুটি দুই তিন ঘন্টা বিদ্যুৎ পাইনি।

“তারপর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ছিল। আজকে আবার বৃষ্টির জন্য ৩/৪ ঘণ্টা ছিল না। এখন আবার বিদ্যুৎ আছে।"

নারায়ণগঞ্জের ঝালকুড়ির অভি নিশান বলেন, “বিদ্যুৎ নিয়ে খুব সমস্যা নাই। সবসময়ের মতো স্বাভাবিক আছে।”

কক্সবাজার শহরে খোঁজ নিলে সেখানেও একই পরিস্থিতির তথ্য মিলেছে। বিদ্যুৎ যাচ্ছে সেখানে; তবে সেটি অস্বাভাবিক নয়।

ঠাকুরগাঁওয়ের অনেকের সঙ্গে কথা বললে সেখানেও একই চিত্র দেখা যায়। বিদ্যুৎ যাচ্ছে তবে তা ঈদের চাপ সামলাতে অস্বাভাবিক মাত্রায় নয়।

ঘাপলা কোথায়?

বিভিন্ন জেলায় ঈদের আগের দিন ও ঈদের দিন বৃষ্টি হওয়ায় ভ্যাপসা গরম কমে তাপমাত্রা সহনীয় মাত্রায় নেমে আসে। এতে বাড়তি চাহিদাও ছিল না বিদ্যুতের।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট থাকতে পারে। বাকি সব জায়গায় বিদ্যুতের চাহিদা ঠিকই থাকার কথা।

তারা বলছেন, চাহিদা কমে যায়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন একদম স্বাভাবিক রয়েছে। জ্বালানি সংকটের যে শঙ্কা ইরান যুদ্ধের জন্য দেখা গেছে তার প্রভাব পড়েনি বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

ডিপিডিসি, ডেসকোসহ বিভিন্ন বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ বিতরণের তথ্য দিচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা গেছে পল্লী ও গ্রামাঞ্চলে।  

দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা আরইবি ঈদের সময় ঝড়ের জন্য বিতরণে সমস্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে এখন ‘একদম স্বাভাবিক’ বলে দাবি রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থার সদস্য (বিতরণ ও পরিচালন) মো. আব্দুর রহিম মল্লিকের।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমাদের তো উৎপাদনের সংকট নেই বরং বিতরণে (সমস্যা)। এটা হচ্ছে কারণ প্রতিদিন ঝড় হচ্ছে। প্রতিদিন ঝড় হচ্ছে, কোথাও না কোথাও ঝড় হচ্ছে।

“আমাদের লাইনগুলো যেসব বিভিন্ন গাছপালার ভেতর দিয়ে যায়, একটা গাছ এসে পড়লে পুরা লাইনে বিঘ্ন দেখা যায়। সেখানে আমাদের আবার চালু করতে একটু সময় লাগে। এই কারণে।”

কুমিল্লার একাধিক মানুষের সমস্যা তুলে ধরলে তিনি অন্যান্য এলাকার কথাও বলেন। তার ভাষ্য, এসব জায়গায় সমস্যা বেশি হয়েছে ঈদের ছুটির কারণে।

“হ্যাঁ কুমিল্লার হয়েছে, আপনার সিলেটে হয়েছে। সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ এলাকায়ও কিছু হয়েছে, শেরপুরে হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে।”

এখন কী অবস্থা জানতে চাইলে আব্দুর রহিম মল্লিক বলেন, “এখন তো পুরোপুরি স্বাভাবিক এখন। এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক। সবসময়ই।

“হয়তো আমাদের আজকে ঝড় হল, আমরা চেষ্টা করি যে ওই দিনের ভেতরেই আমরা বিদ্যুৎ চালু করতে।”

আবহাওয়া ঠাণ্ডা থাকায় বাড়তি চাপ নেই বলে সরকারের অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্য।

পিডিবির সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিশ্চিতভাবেই উৎপাদন-ঘাটতির ফলাফল নয়।”

তার মতে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিতরণ নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে থাকতে পারে।

বর্তমান সঞ্চালন পরিস্থিতি জানতে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা ও নির্বাহী পরিচালকদের ফোন করা হলেও তারা ধরেননি।

জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম পরিস্থিতিটিকে বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলের দুর্বল বিতরণ ব্যবস্থার একটি স্মারক হিসেবে বর্ণনা করেন। বলেন, “দেশের গ্রামীণ বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা দীর্ঘকাল ধরেই সুরক্ষিত নয়।”

বাংলাদেশের গ্রামীণ বিতরণ নেটওয়ার্ক প্রায়ই গাছের ভেতর দিয়ে বিস্তৃত থাকে, বিশেষ করে কালবৈশাখী মৌসুমের সময় এটি বেশি সমস্যার সৃষ্টি করে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস এর লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি গ্রামীণ বিতরণ নেটওয়ার্কে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।”

সামগ্রিকভাবে জাতীয় গ্রিডকে আধুনিকায়ন করার তাগিদ দেন তিনি।

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

উৎপাদনের তথ্য কী বলছে

দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯৪৯ মেগাওয়াট। অথচ এখন চাহিদা সাত হাজারের মেগাওয়াটের নিচে নামলেও পরিস্থিতি  

বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৯ মার্চ থেকে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদাও বেশির ভাগ সময় ছিল ১১ হাজার মেগাওয়াটের নিচে। কেবল চাঁদ রাতের দিন সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাহিদা ছিল ১১ হাজার মেগাওয়াটের ওপরে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল ওইদিন রাত নয়টা থেকে ১০টার মধ্যে। সে সময় চাহিদা ছিল ১১ হাজার ৬৩০ মেগাওয়াট এবং যার পুরোটাই উৎপাদিত হওয়ায় কোনো লোডশেড না থাকার তথ্য মিলেছে।

বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ লিমিটেডের ঘণ্টাভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য বলছে, শুক্রবার দিনের সর্বোচ্চ প্রকৃত উৎপাদন ছিল ৯ হাজার ১২ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ ছিল ১১ হাজার ৬৩০ মেগাওয়াট।

শনিবার দিনের সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ৮ হাজার ৪৫ এবং সন্ধ্যায় ৮ হাজার ৬৭ মেগাওয়াট।

রোববারের চাহিদার পূর্বাভাসে বলা হয়, এদিন দিনের সর্বোচ্চ চাহিদা রয়েছে ৬ হাজার ৬১০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৬০ মেগাওয়াট।

চাহিদার অর্ধেকের মতো বিদ্যুত উৎপাদিত হচ্ছে গ্যাসের মাধ্যমে। এক চতুর্থাংশর মতো উৎপাদন হচ্ছে কয়লার মাধ্যমে। বাকিটুকুর যোগান মিলছে তরল জ্বালানি, হাইড্রো, সৌর, বায়ু ও ভারতের বিদ্যুৎ দিয়ে।

এর মধ্যে ভেড়ামারায় বাংলাদেশ-ভারত ৪০০ কেভি হাই ভোল্টেজ সঞ্চালন লাইনের (এইচভিডিসি), ত্রিপুরা ও আদানির বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

পিডিবির সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সঙ্গে জ্বালানি সংকটের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং চাহিদা কম থাকায় বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত ২০ মার্চ থেকে চাহিদা মূলত ১০ হাজার মেগাওয়াটের নিচেই রয়েছে। কোনো কোনো সময় তা ৬ হাজার মেগাওয়াটের নিচেও নেমে এসেছে, যা তীব্র শীতের সময়কার চাহিদার চেয়েও কম।

বাংলাদেশে গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১২,০০০ মেগাওয়াটের বেশি। জ্বালানি সংকটের সময়ও পিডিবি শুধু গ্যাস থেকেই ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করে থাকে। অন্যদিকে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৮ হাজার মেগাওয়াট। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট।

গত কয়েক দিনে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো খুব সামান্যই ব্যবহৃত হয়েছে।

পিডিবির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. শামীম হাসান বলেন, কোথাও লোডশেডিং নেই। কারণ প্রকৃতি তো যথেষ্ট ঠান্ডা। এজন্য বাড়তি চাপ নাই। তবে ঝড়ের কারণে কোথাও বিদ্যুৎ বিতরণে ‘সমস্যা হতে পারে'।

দাবদাহের মধ্যে লোড শেডিংএক দেশে দুই চিত্র