২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পাঁচ নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে, নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

পাঁচ নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে, নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা
নেত্রকোণা জেলার ভুগাই-কংস নদী জারিয়াজাঞ্জইল পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 May 2026, 08:26 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:31 PM

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

এর মধ্যে নেত্রকোণা জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী ইমন কল্যাণ দাশ শুক্রবার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পাঁচটি নদীর পানি এখন পর্যন্ত কয়েকটি পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

“নেত্রকোণা জেলায় বৃষ্টিপাত থামছে না। এই প্রবণতা আরও তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে। যে কারণে সেখানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি এবং নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলার নলজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টে, নেত্রকোণা জেলার ভুগাই-কংস নদী জারিয়াজাঞ্জইল পয়েন্টে, সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টে, মগরা নদী নেত্রকোণা ও আটপাড়া পয়েন্টে এবং হবিগঞ্জ জেলার সুতাং নদী সুতাং-রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সিলেট জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। 

অপরদিকে, সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে; ভুগাই-কংস নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে।

কেন্দ্রের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়নি। তবে অভ্যন্তরে হাওর অববাহিকায় মাঝারি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, এই অঞ্চলে আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ১২ থেকে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে মাঝারি, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার হলে মাঝারি-ভারি, আর ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে ভারি বৃষ্টিপাত বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল আগামী এক দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে ও পরবর্তী দুই দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। এই সময়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল সর্তকসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।

নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ভুগাই-কংস ও ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। বাউলাই নদী খালিয়াজুরী পয়েন্টে দ্বিতীয় দিনে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নেত্রকোণা জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং নতুন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। জুড়ি নদীর পানি সমতল দ্বিতীয় দিনে এবং মনু ও খোয়াই নদীর পানি সমতল তৃতীয় দিনে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর প্রবাহিত হতে পারে।

ফলে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।