তৌফিক ইমরোজ খালিদী গণমাধ্যমের সাহসী ও সৃজনশীল মানুষ: মাহফুজ আনাম
“তৌফিক তার প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকতাকেন্দ্রিক মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন,” বলেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে গণমাধ্যমের ‘সাহসী ও সৃজনশীল’ ব্যক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম।
‘বিডিনিউজের মতো’ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য খালিদীর প্রতি শ্রদ্ধাও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার দুপুরে বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জানাজায় যেসব বন্ধু, স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী এসেছিলেন, সেই কাতারে মাহফুজ আনামও ছিলেন।
জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত দুঃখিত, মর্মাহত। তৌফিক ইমরোজ খালিদী গণমাধ্যম জগতের একজন সাহসী ও সৃজনশীল মানুষ।”
একসময়ের সহকর্মীর বিষয়ে স্মৃতিচারণ করে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক বলেন, “আমার খুব স্পষ্ট মনে আছে, ৩৫ বছর আগে সে আমাদের সঙ্গে ছিল। তরুণ এ মানুষটি ছিল খুবই উদ্যমী ও মেধাবী।”
মাহফুজ আনাম বলেন, “যে কারণে আমি তাকে শ্রদ্ধা জানাতে চাই, তা হলো তার নিজের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। আমরা অনেকেই সাংবাদিকতায় জীবন উৎসর্গ করেছি। কিন্তু তিনি বিডিনিউজের মতো একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং সেটি পরিচালনাও করেছেন।
“আমি সবসময় মনে করি, যে সাংবাদিক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে সেটি পরিচালনা করেন, তিনি বিশেষ অবদান রাখেন। তৌফিক তার প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকতাকেন্দ্রিক মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করেছেন।
“বিডিনিউজ যে কাঠামো গড়ে তুলেছে, ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, তা আমাদের গণমাধ্যম অঙ্গনে তৌফিকের অসাধারণ অবদান।”
ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদী গত ১ অক্টোবর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেইন্ট বার্থোলমিউ’স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তার মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরদিন স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর ৮ অক্টোবর জোহরের নামাজের পর পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইন মসজিদে খালিদীর জানাজা হয়। সেখানে সাবেক সহকর্মী এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে খালিদীর মরদেহ ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছায় শনিবার সকাল ১১টার দিকে। বিমানবন্দর থেকে কফিন নেওয়া হয় তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রিয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অফিস প্রাঙ্গণে। সেখানে মরদেহ রাখা হয় দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত।
এরপর সাংবাদিক খালিদীর মরদেহ নেওয়া হয় তার বাসায়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা শেষবার তাকে দেখেন। বাস থেকে দুপুরে নিথর খালিদীকে নেওয়া হয় বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে।
