Published : 30 Apr 2026, 08:22 PM
আদালতের নির্দেশ বারবার ‘অমান্য’ করার অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মহাপরিচালককে তলব করেছে হাই কোর্ট।
আগামী ১৯ মে তাকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের বেঞ্চ আদালত অবমাননার একটি আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেয়।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ছিদ্দিকুল্লাহ মিয়া।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ৯ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে সারা দেশে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়। তবে এই ফলাফলে ‘ব্যাপক অনিয়মের’ অভিযোগ ওঠে।
আইনজীবী ছিদ্দিকুল্লাহ মিয়ার দাবি, পরীক্ষায় যারা কম নম্বর পেয়েছেন বা ফেল করেছেন তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, আর যারা পাস করেছেন বা বেশি নম্বর পেয়েছেন তারা বাদ পড়েছেন।
“আদালতে আমরা প্রমাণ করেছি, একজন ৭৮ নম্বর পেয়েও নিয়োগ পাননি, অথচ ৫২ পাওয়া প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যে প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনই করেননি, তাকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান দেখিয়ে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, ফলাফলে এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে ২৫ জনের বেশি প্রার্থী হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রিটকারীদের নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও কোনো স্থগিতাদেশ পায়নি। তা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আদালতের রায় বাস্তবায়ন করেনি। এরপর রিটকারীরা হাই কোর্টে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন।
আইনজীবী ছিদ্দিকুল্লাহ মিয়া বলেন, শুনানিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দাবি করে যে, রিটকারীরা পাস করেননি। তখন আদালত নিয়োগপ্রাপ্তদের ফলাফল তলব করেন। সেই ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রিটকারীরাই প্রকৃতপক্ষে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত সম্প্রতি এক আদেশে কোনো ধরনের অজুহাত ছাড়া রিটকারীদের নিয়োগ দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন।
“নির্ধারিত সময় পার হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রিটকারীদের নিয়োগ দেয়নি। এমনকি সর্বশেষ শুনানির দিন আদালতে অধিদপ্তরের কোনো প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন না।
“যেহেতু এটি ‘কনটেম্পটের’ (আদালত অবমাননা) বিষয়, আর আদালতের আদেশ একাধিকবার অমান্য করা হয়েছে, তাই আমরা ডিজিকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির করার আবেদন জানাই। আদালত আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে আগামী ১৯ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।”