Published : 24 Aug 2025, 05:54 PM
প্রায় ১৩ বছর পর পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে দুই দেশের সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা বিলোপ চুক্তি এবং পাঁচটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের উপস্থিতিতে এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
এর আগে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠকে ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তিতে’ বিদ্যমান ‘বহুমাত্রিক ও ঐতিহাসিক’ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দুই পক্ষ।
চুক্তি
সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা বিলোপ চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।
এর ফলে বাংলাদেশের সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীরা পাকিস্তানে গেলে তাদের আগে থেকে ভিসা নিতে হবে না। পাকিস্তানের সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
এমওইউ
• দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সমঝোতা স্মারক।
• দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক।
• দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার (বাসস ও এপিপিসি) মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক।
• বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সঙ্গে পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইসলামাবাদের (আইএসএসআই) সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক।
বাসস জানায়, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, “পাকিস্তান আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক বহুমুখী এবং ঐতিহাসিক। আমরা বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছি।”
তৌহিদ হোসেন জানান, বৈঠকে অতীতের অমীমাংসিত বিষয়, বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, দুই দেশই বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে এক বিলিয়ন ডলারের নিচে।
বাসস লিখেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (সাফটা) কাঠামোর আওতায় পাকিস্তানের বাজারে বস্ত্র, জ্বালানি, ওষুধশিল্প, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রবেশাধিকার চাওয়া হয়েছে। পাকিস্তানও বাংলাদেশে জ্বালানি রপ্তানির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে চট্টগ্রাম-করাচি শিপিং সার্ভিস চালু হলেও তা নিয়মিত নয়। এ সেবাটি নিয়মিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বৈঠকে।
তিনি জানান, উড়োজাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে দুটি এয়ারলাইন্সকে প্রাথমিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিস্তারিত কার্যক্রম চলছে, যা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, পর্যটনসহ অন্যান্য খাতকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
বৈঠকে উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়, বিশেষ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।
এছাড়া চিকিৎসা শিক্ষা, ওষুধ, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারেও উভয় দেশ একমত হয়েছে বলে উপদেষ্টা জানান।
তিনি বলেন, “দ্বিপক্ষীয় বিষয়ের পাশাপাশি আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতা, যেমন সার্ক সম্পর্কেও আলোচনা করেছি।”