১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ডিবির হারুনের ২০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ, অভিযোগপত্র অনুমোদন

দুদক একই সঙ্গে তার ভাই শাহরিয়ারের বিরুদ্ধেও অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Sep 2026, 08:22 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ও তার ছোট ভাই এবিএম শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের’ অভিযোগে দুই মামলায় অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার বিকালে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।

তিনি বলেন, হারুনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর করা মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

তদন্তে হারুনের ২১ কোটি ২৮ লাখ ৯ হাজার ৬০৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা বলেছে দুদক। এর বিপরীতে তার বৈধ উৎস থেকে সম্পদ অর্জনের সক্ষমতা পাওয়া গেছে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৫ হাজার ৬ টাকার। এ হিসাবে সাবেক এ পুলিশ কর্মকর্তা হারুন ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকার ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ’ অর্জন করেছেন।

অপরদিকে আরেক মামলায় হারুনের ভাই এবিএম শাহারিয়ার ও হারুনকে আসামি করা হয়েছিল। এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করা হয়েছে।

তদন্তে শাহারিয়ারের ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৮৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত তার মোট আয় পাওয়া গেছে ৬৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৪ টাকা। ব্যয় ছিল ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ১৭৪ টাকা। ব্যয় বাদ দিলে সম্পদ অর্জনের বৈধ উৎস দাঁড়ায় ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ১৩০ টাকা।

এ হিসাবে শাহারিয়ারের ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫ টাকার সম্পদ ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত’ বলে অভিযোগ করেছে দুদক।

২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হারুন, তার স্ত্রী শিরিন আক্তার ও ভাই শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছিল দুদক। তখন হারুনের বিরুদ্ধে ১৭ কোটি ৫১ লাখ ১৭ হাজার ৮০৬ টাকার এবং শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

তদন্তে আরও সম্পদের তথ্য পাওয়ার পর হারুনের ক্ষেত্রে অভিযোগের অঙ্ক বেড়ে ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং শাহারিয়ারের ক্ষেত্রে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫ টাকা হয়েছে।

হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদনের বিষয়ে দুদক সচিব বলেন, তিনি ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকার মূল্যের ‘জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনপূর্বক’ ভোগ দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

হারুন ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধানসহ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের’ মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তে পাওয়া গেছে।

দুদকের অভিযোগ, হারুন অবৈধ সম্পদের উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন করতে ‘বিপুল অর্থ নগদে সংরক্ষণ ও লেনদেন’ করেছেন। ব্যাংক হিসাবেও ‘অস্বাভাবিক’ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

তার সম্পদের একটি বড় অংশ বাবা-মায়ের নামে কিনে পরে নিজের নামে হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে দুদক।

হারুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১), ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

অপরদিকে হারুনের ভাই শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদনের বিষয়ে দুদক সচিব বলেন, শাহারিয়ার ওই সম্পদ ভোগদখলে রেখেছেন এবং হারুন ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের’ মাধ্যমে তাকে এসব সম্পদ অর্জনে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছেন।

দুদকের অভিযোগ, দুই ভাই পরস্পরের যোগসাজশে সম্পদের ‘অবৈধ উৎস ও মালিকানা গোপন’ করতে হস্তান্তর, রূপান্তর ও ‘লেয়ারিং’ করেছেন।

লেয়ারিং বলতে অর্থের উৎস আড়াল করতে একাধিক ধাপে অর্থ বা সম্পদ স্থানান্তর করা বোঝায়।

অভিযোগপত্রে শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

হারুনের বিরুদ্ধে ভাইকে সম্পদ অর্জনে সহযোগিতার অভিযোগে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২), দণ্ডবিধির ১০৯ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।

দুই মামলার তদন্ত করেছেন দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।

তদন্তে হারুনের ১২ কোটি ৭ লাখ ৭ হাজার ৯১২ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে দক্ষিণখানের আশিয়ান সিটিতে পাঁচ কাঠার প্লট, বনানীতে জমি ও ভবন, উত্তরায় আটতলা বাড়ির অংশ, পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির প্লট এবং কক্সবাজার ও টেকনাফে জমি রয়েছে।

তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৯ কোটি ২১ লাখ ১ হাজার ৬৯৩ টাকা। এর মধ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ এবং উত্তরা, বনানী ও নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে সদস্যপদের জন্য দেওয়া অর্থের তথ্য রয়েছে।

শাহারিয়ারের সম্পদের মধ্যে সাভার, রূপগঞ্জ, গুলশান ও অষ্টগ্রামে জমি এবং প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট অ্যান্ড এগ্রো লিমিটেডে বিনিয়োগের তথ্য রয়েছে।

তদন্তে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে কিশোরগঞ্জে ১ হাজার ৮৫০ শতাংশ জমি হারুনের কাছ থেকে হেবা হিসেবে পেয়েছিলেন শাহরিয়ার।

দুদকের অভিযোগ, হারুন তার ‘অপরাধলব্ধ সম্পদ’ থেকে ওই জমি ভাইকে হেবা দিয়ে সম্পদ অর্জনে সহযোগিতা করেছেন।

হারুনের সম্পদের খোঁজে মাঠে দুদক

হারুন ও বিপ্লবের বিরুদ্ধে বিএনপির ফারুকের মামলা

ডিবির হারুনের ভাই শাহরিয়ারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা