তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।
Published : 23 Aug 2024, 12:05 AM
ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
দুদকের আবেদনে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন বলে পেশকার ফয়েজ আহমেদ জানান।
নিষেধাজ্ঞার আদেশে বলা হয়েছে, তাকসিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান করছে।
তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আবেদনের আগে সোমবার পুলিশের বিশেষ শাখাকেও চিঠি পাঠায় দুদক।
তাকসিমের বিরুদ্ধে আসা বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। দুদকের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলমের সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ২৮ অগাস্টের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তাকসিম এ খানের প্রথম নিয়োগ দেওয়ার সময়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা, আবেদন, নিয়োগপত্রসহ সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি দিতে বলা হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে।
এ ছাড়া ওয়াসায় তার চাকরির সময়কাল, চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়ে থাকলে কতবার বৃদ্ধি করা হয়েছে ও মেয়াদ বৃদ্ধিসংক্রান্ত নীতিমালা বা বিধিসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত ফটোকপিও দিতে বলা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে তাকসিম এ খানকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয়। এরপর তার মেয়াদ বাড়ানো হয় ৭ দফা।
সবশেষ গণআন্দোলনে সরকার পতনের দশ দিন পর গত ১৫ অগাস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তাকসিম। পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথা বলেছেন।
ওয়াসার এমডির পদে থাকার সময় অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানা কারণে বারবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। পদত্যাগ আর অপসারণের দাবিও উঠেছে বহুবার। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কোনো কিছুতেই কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের পর ঢাকা ওয়াসায় অবসান ঘটে তাকসিম যুগের।
পদত্যাগের পর তার বিরুদ্ধে ‘অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের’ অভিযোগ তুলে গ্রেপ্তারের দাবিও জানিয়েছে ‘ওয়াসার নিরাপদ পানি আন্দোলন’ সংগঠন।