Published : 09 May 2026, 09:06 PM
সাবেক স্ত্রীকে মারধরের মামলায় নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।
মো. ছানাউল্ল্যাহ নামে ওই কর্মকর্তা বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইন অনুবিভাগের উপসচিব পদে কর্মরত। এর আগে ঢাকায় অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপির উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের এসআই শাহানাজ বেগম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়ার কথা জানান।
শনিবার তিনি বলেন, "গত ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।"
অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, "বাদী একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তার গাড়ির ব্যবসা আছে। তিনি ‘ডিভোর্সি’। তার দুই ছেলে ও এক জন মেয়ে আছে। সন্তানদের নিয়ে গুলশানের নিজেরর ফ্ল্যাটে থাকেন।
“মো. ছানাউল্ল্যাহ একজন উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। তার প্রথম স্ত্রী ও সেই সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। ব্যবসায়িক লেনদেনে পাওনা অর্থ আদায়ে আইনি সহায়তার সূত্র ধরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ছানাউল্লাহ সঙ্গে বাদীর পরিচয়। হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গেল বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তারা বিয়ে করেন।"
অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিয়ের পর তারা বনানী থানা এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। বাসার সব খরচ বাদী বহন করতেন। ছানাউল্ল্যাহ মাঝে-মধ্যে ওই বাসায় আসা-যাওয়া করতেন।
“বিয়ের পর থেকে ছানাউল্ল্যাহ বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা বলে বাদীর কাছ থেকে টাকা নিত। বিয়ের কিছু দিন না যেতেই গাড়ি ও জমি কিনে দেওয়ার জন্য বাদীর উপর চাপ সৃষ্টি করেন ছানাউল্ল্যাহ। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে বনানীর বাসায় যান ছানাউল্ল্যাহ। তাদের মধ্যে কথাবার্তার একপর্যায়ে ছানাউল্ল্যাহ যৌতুক হিসেবে বাদীর কাছে দামি গাড়ি ও জমি কিনে দেওয়ার দাবি করে। বাদী রাজি না হলে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছানাউল্ল্যাহ ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীকে মারধর করে জখম করেন।”
মামলাটি হয় ১৩ জানুয়ারি; বনানী থানায়। মামলায় এজাহারে বাদী ‘গুরুতর আঘাতের’ অভিযোগ এনেছিলেন। তবে তদন্তে সাধারণ আঘাতের তথ্য উঠে এসেছে।
ছানাউল্যাহ জামিনে আছেন। মামলা হওয়ার পরেই আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তিনি।