Published : 22 Sep 2025, 04:12 PM
বুয়েট শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনি হত্যা মামলায় সাজা খাটা মুশফিক উদ্দীন টগরকে লালবাগ থানার অস্ত্র মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার টগরকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ থানার এসআই মতিয়ার রহমান বুলবুল।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর হাকিম মাসুম মিয়া তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রসিকিউশনে এসআই আশরাফুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি নিয়ে শনিবার টগরের দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয় আদালত।
ঢাকার আজিমপুর এলাকা থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে টগরকে গ্রেপ্তারের করা পর র্যাব বলেছে, সীমান্তবর্তী এলাকা হতে অবৈধভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করে ঢাকায় এনে বিভিন্ন মানুষকে সরবরাহ করে আসছিলেন তিনি। র্যাব-৩ এর ডিএডি মো. খালেকুজ্জামান শুক্রবার বিকালে মামলা করেন এবং টগরকে লালবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব বলেছে, আজিমপুরের চায়না বিল্ডিং গলির একটি বাসায় মাদক বিক্রির খবরে র্যাব সেখানে যায়। তিন রুমের একটি ফ্ল্যাটে ছিলেন ৫০ বছর বয়সী টগর। পালানোর চেষ্টা করলে র্যাব সদস্যরা তাকে ধরে ফেলে। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছে অস্ত্র থাকার কথা ‘স্বীকার করেন’। পরে তার কক্ষ থেকে বিদেশি রিভলবার, ম্যাগাজিন, গুলি, মুখোশ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ৩২ এমএম ১টি রিভলবার, ১টি ম্যাগাজিন, ১টি কাঠের পিস্তলের গ্রিপ, ১৫৫ রাউন্ড .২২ রাইফেলের গুলি, ০১টি ৭.৬২ এমএম মিসফায়ার গুলি, ১টি শর্টগানের খালি কার্তুজ, মানুষের মুখায়বের দুটি মুখোশ ও ২টি মোবাইল জব্দ করা হয়।
এসব অস্ত্রের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি টগর। ‘মুখোশ পরে’ ঢাকা শহরের বিভিন্ন তিনি ‘অপরাধ করে আসছিলেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
টগর সনি হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ২০০২ সালের ২৪ জুন। ২০২০ সালে কারামুক্তির পর থেকে তিনি ‘স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন’ বলে র্যাব জানিয়েছে।
২০০২ সালের ৮ জুন বুয়েটে দরপত্র নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান কেমিকৌশল বিভাগের ৯৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী সনি।
বুয়েট ছাত্রদল সভাপতি মোকাম্মেল হায়াত খান মুকি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের টগর গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যে পড়েছিলেন তিনি।
দীর্ঘ আন্দোলনের পর আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। বিচারে নিম্ন আদালতে মুকি, টগর ও নুরুল ইসলাম সাগরের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় আদালত।
২০০৬ সালের ১০ মার্চ হাই কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এসএম মাসুম বিল্লাহ ও মাসুমকে খালাস দেয় হাই কোর্ট।
মুকি পরে পালিয়ে যান অস্ট্রেলিয়ায়, সাগরও পলাতক রয়েছেন। আর টগর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন, যাকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করল র্যাব।