Published : 25 Jul 2023, 07:54 PM
যে কোনো রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তবে সহিংসতা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পদক্ষেপ নেবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।
সচিবালয়ে মঙ্গলবার বিকালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইমন গিলমোর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপও বাড়ছে। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিপরীত অবস্থানে থাকা দুই প্রধান দলের পক্ষ থেকেই ২৭ জুলাই ঢাকায় সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।
সেই সমাবেশ নিয়ে এক প্রশ্নে কামাল বলেন, “হঠাৎ করেই তারা (বিএনপি) এমন এমন প্রোগ্রাম দিচ্ছেন, যেগুলোয় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তারা বলছেন যে তারা আন্দোলন শুরু করেছেন। তারা আন্দোলন করবেন। আমরা সেখানে কোনো বাধা দিচ্ছি না।
“যদি জনগণ আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে (বিএনপির সমাবেশে) আসে তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু জনগণকে জোর করে আনলে আমাদের আপত্তি। আমাদের আপত্তি সেখানেই যদি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে, রাস্তাঘাট বন্ধ করে তারা যদি কিছু করে কিংবা জানমালের ক্ষতি করে অথবা জীবননাশ হয়, আমরা তখনই বাধা দেব।”
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা পদযাত্রা করেছে, মানববন্ধন করেছে, যা করেছে আমরা কিন্তু কোনোটাতেই বাধা দিইনি। তারা সুন্দরভাবে করেছেন এবং ভবিষ্যতেও যদি তারা করতে চান করবেন, সেখানে আমাদের বাধা থাকবে না।
“কিন্তু যখন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে, জানমাল ধ্বংস করতে চাইবে, গ্রোপারটি ধ্বংস করবে, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।”
দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সংখ্যায় গুনলে হয়ত ২০ জন নিয়ে রাস্তায় নামতে পারেন না, তিনিও একটা কর্মসূচি দেওয়া শুরু করেছেন। সেগুলো আপনারা দেখেছেন। সবাই কর্মসূচি দিচ্ছেন, সবাই রাস্তায় থাকবেন।
“আমরা এটুকুই বলবো, যতক্ষণ পর্যন্ত জনদুর্ভোগ মানে জানমালের ক্ষতি না করবেন, গাড়ি ভাংচুর না করবেন, ততক্ষণ আমরা তাদেরকে সব ধরনের কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছি না। এখন যেই দলই হোক তারা তাদের কর্মসূচি পালন করবে।”
ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা নির্বাচনের প্রস্ততি নিয়ে আলোচনা করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের জানিয়ে দিয়েছি, সংবিধান অনুসারে নির্বাচন হবে। তবে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে।
“নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া। সেই উপহার দেওয়ার জন্য তিন মাস নির্বাচন কমিশন সরকার পরিচালনা করবে। সরকার মানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচন পরিচালনা করতে যা যা প্রয়োজন, তা নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে করতে পারবে। আমরাও মনে করি, অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত একটি নির্বাচন উপহার দিতে পারবে নির্বাচন কমিশন।”
গুম-খুনের একটি চিত্রও গিলমারের কাছে তুলে ধরেছেন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে যে পরিমাণ গুম হত, ২০০৪ সালের একটি সংখ্যা তুলে ধরেছি। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশনা অনুসারে ২০০৪ সালে ৪০০ মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তখন যে নিখোঁজগুলো হয়েছে, তার তুলনায় এখন অনেক কম।”
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনায় হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের নিয়ে কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় তার প্রশংসা করেছেন তিনি।
রোহিঙ্গারা যাতে তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সেই চেষ্টা আছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন ইমন গিলমোর।