ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ।
Published : 17 Sep 2026, 03:18 PM
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, গুঞ্জন ও মিথ্যাচার রোধে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ।
তিনি বলেছেন, “স্বাধীনতা মানে হচ্ছে এটা নয় যে, যা ইচ্ছে আপনি তা লিখবেন।”
গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য যাচাই-বাছাই বা ‘ফ্যাক্ট চেক’-এর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদকর্মী ও বিভিন্ন সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন প্রেস সচিব।
ছালেহ শিবলী বলেন, “এই বাংলাদেশ সরকার স্বাধীনতার পক্ষে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে। সংবাদপত্রের, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে। আমরা যখনই এই কথাটা বলি, স্বাধীনতার কথা বলি, তখন আমরা যেন স্বৈরাচারী না হয়ে উঠি। স্বাধীনতা মানে হচ্ছে এটা নয় যে, যা ইচ্ছে আপনি তা লিখবেন।
“প্রায় সাত কোটির মত মানুষ এখন বাংলাদেশে ফেইসবুক ব্যবহার করি। এখন আপনার ইচ্ছা হচ্ছে, আপনি কারও বিরুদ্ধে লেখা শুরু করবেন। তো কারও বিরুদ্ধে যখন লেখা শুরু করবেন, যার বিরুদ্ধে লেখা শুরু করবেন, তার কোনো বক্তব্য তো আপনাকে নিতে হবে।”
ডিজিটাল মাধ্যমে অসত্য তথ্যের প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, “যার ইচ্ছা যার বিরুদ্ধে ইচ্ছা হল লিখে দিলাম। এই জায়গা থেকে মুক্তি পাব কীভাবে? মুক্তি পাওয়ার তো কোনো কারণ নেই।
“যেভাবে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ছে মহামারীর মত—যে যার ইচ্ছা, যার বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা লিখে দিলাম, আবার পছন্দ হচ্ছে না লিখে দিলাম—এই জায়গাগুলো থেকে আমি আজকের এই ফোরামে যে প্রস্তাবটা এর আগেও দিয়েছি, একটা প্রস্তাব দিতে চাই।”
অপতথ্য রোধে প্রতিটি সংবাদমাধ্যমে নিয়মিতভাবে তথ্য যাচাইয়ের অনুষ্ঠান প্রচার বা প্রতিবেদন প্রকাশের তাগিদ দেন প্রেস সচিব।
তিনি বলেন, “গতকালও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আমি কথাটা বলেছিলাম। এই গুজব, গুঞ্জন, মিথ্যাচার—এগুলি বন্ধ করার জন্য আপনারা যারা গণমাধ্যমে কাজ করছেন, বিভিন্ন মিডিয়ায় কাজ করছেন, মোবাইল জার্নালিজম করছেন, সিটিজেন জার্নালিজম করছেন, পত্রিকায়ে কাজ করছেন, টেলিভিশনে কাজ করছেন—আমরা যদি প্রত্যেকে ১০ মিনিটের জন্য একটা অনুষ্ঠান করি, ১৫ মিনিটের জন্য অনুষ্ঠান করি, কিংবা প্রিন্ট মিডিয়া হলে আমরা একটা নিউজ ছাপি যে সারাদিন আমরা ঘুম থেকে জেগে ওঠার পরে সারাদিন আমরা যা দেখেছি, যা শুনেছি, যা বুঝেছি—এগুলো কি আসলেই সত্য ছিল কি না।
“এই ফ্যাক্ট চেক অথবা সত্য-মিথ্যার যাচাই-বাছাই যে কোনো নাম দিয়ে যদি আমরা একটা অনুষ্ঠান করি, তাহলে দেখবেন যে অনেক মানুষের উপকার হবে।”
তিনি বলেন, “আমরা জানি যে অনেক মানুষ সাফারার। যা দেখল না, আর একজনের বিরুদ্ধে লিখে দিল। কী লিখে দিল, কেন লিখে দিল? এই জায়গাগুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।”
স্বাধীনতার সীমানা নির্ধারণ করবে আদালত
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিধি নিয়ে প্রেস সচিব বলেন, “স্বাধীনতা মানে স্বৈরাচারিতা নয়। এখন তো আপনাদের প্রশ্ন আসবে—তাহলে আপনারা কি গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরতে চান কি না? স্বাধীনতাটা কি জিনিস গণমাধ্যমের? আমার কথা হচ্ছে, স্বাধীনতা কতদূর গণমাধ্যমের? এটা কে নির্ধারণ করবে? সরকার, আমি, আপনি? কে নির্ধারণ করবে?
“সীমানারেখাটা আমি, আপনি, সরকার নির্ধারণ করব না, সে সীমানারেখা নির্ধারণ করবে আদালত।”
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।