কুড়িগ্রামে গাছে গাছে ঝুলছে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রের লেখা সচেতনতার বার্তা
পরিবেশ, মাদক, বাল্যবিয়ে ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নানা বার্তা লিখে গ্রামের রাস্তার গাছে গাছে ঝুলিয়েছে মুগ্ধ।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার একটি গ্রামের রাস্তার দুপাশের গাছে গাছে ঝুলছে ছোট ছোট কাগজ।
সেসব কাগজে লেখা- ‘অকারণে গাছ কাটব না’, ‘পাখি আমাদের বন্ধু’, ‘মোড়ে গতি কমান, জীবন বাঁচান’, ‘মাদককে না বলুন’, ‘বাল্যবিয়েকে না বলুন’ ও ‘ট্রাফিক আইন মেনে চলুন’।
এসব সচেতনতামূলক বার্তা লিখেছে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিছবাহুল ইসলাম মুগ্ধ। উপজেলার ফুলবাড়ীর বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর ঘোগারকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র সে। দুই ভাইয়ের মধ্যে মুগ্ধ ছোট। তার বাবা শিক্ষক এবং মা গৃহিণী।
নিজের হাতে লেখা প্রায় ২০টি কাগজ সে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার দুপাশের গাছে ঝুলিয়েছে।
রাস্তার দুপাশে সারি সারি গাছের ফাঁকে এসব কাগজ দেখে পথচারীদের অনেকে থেমে লেখাগুলো পড়ছেন। মুগ্ধর এই উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
মুগ্ধ বলে, এলাকার নানা সমস্যা তাকে ভাবায়। অকারণে গাছ কাটা, বাড়ির আশপাশ অপরিষ্কার রাখা, মাদক ও বাল্যবিয়ের মতো বিষয় নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে সে এ কাজ শুরু করেছে।
মুগ্ধ বলে, “বিদ্যালয়ে ছবি আঁকা, পোস্টার ও সুন্দর হাতের লেখা শেখানো হতো। সেখান থেকেই বাণী লেখার আগ্রহ হয়। পরে প্রায় ২০টি বাণী লিখে জমিয়ে রাখি। এরপর বন্ধুদের নিয়ে সেগুলো গাছে গাছে ঝুলিয়ে দিই।”
মুগ্ধর সঙ্গে কাজে সহযোগিতা করছে তার সহপাঠী ও এলাকার কয়েকজন শিশু। তারা নিজেরাই একটি মই তৈরি করেছে। এরপর কাগজ ও সুতো নিয়ে গাছে গাছে পোস্টার ঝুলিয়েছে।
পথচারী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় লেখাগুলো দেখে অবাক হয়েছি। এত ছোট একটি ছেলে এত সুন্দর চিন্তা করতে পারে, তা ভাবাই যায় না।”
ঘোগারকুটি গ্রামের আমজাদ হোসেন বলেন, “ছোট একটি ছেলে এভাবে নানা কথা লিখে গাছে গাছে ঝুলিয়েছে। বিষয়টি আমাদেরও ভাবিয়েছে। গ্রামের মানুষ পোস্টারগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।”
মুগ্ধর বাবা সুজাউদ্দৌলা ফুলবাড়ী শাহবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
তিনি বলেন, “ছেলের হাতের লেখা পোস্টারগুলো দেখে আমি অবাক হয়েছি। সে আমাকে কিছু জানায়নি। ওর কাজ দেখে খুব আবেগাপ্লুত হয়েছি। ভবিষ্যতেও সে এমন কাজ করতে চাইলে আমি বন্ধুর মতো পাশে থাকব।”
মুগ্ধর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোবেদ আলী বলেন, মুগ্ধ খুব মনোযোগী ছাত্র। সে সবসময় নতুন কিছু করতে চায়। অন্য শিক্ষার্থীরাও এ ধরনের কাজে এগিয়ে এলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ফুলবাড়ীর বড়ভিটা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও সংস্কৃতিকল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক মো. নুর মোহাম্মদ বলেন, “প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন সামাজিক ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ খুব বেশি দেখা যায় না। মুগ্ধর মতো শিশুদের পাশে থাকা এবং তাদের চিন্তাভাবনাকে উৎসাহ দেওয়া দরকার।”
