চুয়াডাঙ্গায় স্কুলের পাশের দেয়ালে লেখা ‘জয় হাসিনা’, শিক্ষার্থীদের দাবি ‘ইয়ার্কি’
“তারা দাবি করেছে, অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর পরামর্শেই এসব লেখা হয়েছে। আমরা আরও খোঁজখবর নিচ্ছি।”
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের একটি বসতবাড়ির দেয়ালে ‘জয় হাসিনা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ ও ‘মুজিব সেনা’সহ বেশ কিছু লেখা নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে দেয়াল লিখনের ছবি ও ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে স্কুলের পোশাক পরা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে স্প্রে রঙ দিয়ে দেয়ালে লিখতে দেখা যায়।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে ওই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ বিদ্যালয়ে ডেকে এনে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম।
জবাবে শিক্ষার্থীরা দাবি করে, কেবল ‘ইয়ার্কি’ ও ‘মজা’ করার ছলে তারা দেয়ালে সেগুলো লিখেছিল।
এদিকে দেয়াল লিখনের ছবি ও ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পরার পর বৃহস্পতিবার রাতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে।
শহরে বিক্ষোভ মিছিলের পর জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা শহরের শহীদ হাসান চত্বরে সমবেত হয়ে পথসভায় বক্তৃতা করেন।
এতে পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও বিএনপির অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাসের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিবসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
সেলিমুল হাবিব বলেন, “বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের বিক্ষোভটি ছিল গোপন ষড়যন্ত্রকারী ও জেলার ভবমূর্তি বিনষ্টকারীদের বিপক্ষে। আমাদের মিছিলের কর্মসূচিটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল।
“দেয়াল লিখনের বিষয়টি জানার পর আমরা সেটিরও প্রতিবাদ করেছি। আমরা চাই প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
তিনি বলেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও দলটির অংগসংগঠনের কেউ কোনো বিশৃংখলা করতে চাইলে আমার তা মেনে নেব না। আমরা প্রতিবাদ করবো। আমাদের কর্মসূচি ছিল সেই প্রতিবাদেরই অংশ।”
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম বলছেন, “ভিডিও এবং ছবিতে দেখতে পাওয়া শিক্ষার্থীরা পঞ্চম ও সপ্তম শ্রেণীর। আমরা তাদের অভিভাবকসহ বিদ্যালয়ে ডেকেছিলাম। তারা বলেছে, শুধুই ‘ইয়ার্কি’ আর ‘মজা’ করার জন্য দেয়ালে লিখেছে।”
তিনি বলেন, “তাদের কাছে কালো রঙের একটি স্প্রে রঙ ছিল। সাদা রঙে যেসব দেয়াল লিখন তারা তা লেখেনি; শুধু কালোগুলো তাদের লেখা বলে দাবি করেছে। তারা দাবি করেছে, অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর পরামর্শেই এসব লেখা হয়েছে। আমরা আরও খোঁজখবর নিচ্ছি।”
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে আশি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমরা তাৎক্ষণিক একটি প্রতিবাদ মিছিল করেছি। নিষিদ্ব একটি দলের বিষয়ে যা কিছু তা প্রশাসন দেখবে, আমরা নই।”
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। বিস্তারিত আমার জানা নেই। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ভাল বলতে পারবে।”
