Published : 08 Jul 2025, 09:28 PM
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির’ অভিযোগ তদন্তে কেন দেরি হচ্ছে, তার কারণ জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
সংস্থার মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন বলেছেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে দালিলিক প্রমাণাদি ‘না পাওয়ায়’ অনুসন্ধান-তদন্ত কার্যক্রম কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দালিলিক প্রমাণাদি সংগ্রহ হলে অনুসন্ধান ও তদন্ত কর্মকর্তারা প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে’ রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে করা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে দুদক।
ছয়টি মামলায় আসামি করা হয়েছে সাতজনকে। তারা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক।
এখন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির’ একাধিক অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।
‘প্রভাব খাটিয়ে নিজের তহবিলে অর্থ নেওয়ার’ অভিযোগে শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত চলছে।
‘ঘুষ’ হিসেবে গুলশানে একটি ফ্ল্যাট নিজের নামে লিখিয়ে নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনার ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে করা মামলাটিও তদন্ত করছে দুদক।
এসব মামলা ও অভিযোগের তদন্ত-অনুসন্ধানের বিষয়ে সবশেষ অগ্রগতি জানতে চাইলে দুদক মহাপরিচালক আক্তার বলেন, “যে বিষয়গুলো আমাদের তদন্তাধীন রয়েছে, সেইগুলো সম্পর্কে কমিশন অনেক সচেষ্ট আছে। যারা এসব অনুসন্ধান-তদন্তের দায়িত্বে আছেন, তদন্ত শেষ হলেই তারা প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
“গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান যেগুলো চলমান রয়েছে, সেগুলোর দালিলিক প্রমাণাদিসহ দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা আন্তরিক।”
দুদক সব সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব বিষয় ‘ভাগাভাগি’ করে দাবি করে তিনি বলেন, “আমাদের যে নির্ধারিত সময়সূচি আছে, সেটা অনুসরণ করেই তারা (দুদক কর্মকর্তা) অনুসন্ধান-তদন্তের কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন।”
যেসব ক্ষেত্রে দেশের বাইরে থেকে সংশ্লিষ্ট মামলা ও অনুসন্ধানের তথ্য সংগ্রহ করতে হয়, সেগুলোর বিষয়ে বিভিন্ন দেশে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে বলে জানান দুদক মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, “এখনও অনেক দালিলিক প্রমাণাদি সংগ্রহ করতে পারিনি। আমাদের কাছে এখনো সেগুলো পৌঁছায়নি, সেজন্য একটু সময় লাগছে। সেগুলো পাওয়া সাপেক্ষে তারা তাদের প্রতিবেদন দাখিল করবেন।”
শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কমিশন তৎপর কিনা, জানতে চাইলে দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, “তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে যদি উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি জানা যায়, তাহলে আপনাদের অবশ্যই অবহিত করা হবে। কিন্তু যারা দেশের বাইরে পলাতক রয়েছেন, তাদের ব্যাপারে হচ্ছে যে, পলাতক থাকলে আমাদের অনুসন্ধান বা তদন্ত কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে না। তাদের অনুপস্থিতিতে অনুসন্ধান-তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকবে।
“যাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে, বিচার কার্যক্রম চলমান থাকবে।”
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ অগাস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা, এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
সেদিন শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বোন শেখ রেহানাও দেশ ছাড়েন। শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার সাবেক উপদেষ্টা জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র্র প্রবাসী। আর রেহানার মেয়ে টিউলিপ যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতিমন্ত্রী, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তিনি পদত্যাগ করেন।
ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের ১২৪টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৬৩৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
আরও পড়ুন:
হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ দুদকের?
শেখ পরিবারের ৭ জনকে ফেরাতে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ 'হবে' দুদক
হাসিনা পরিবারের প্লট 'দুর্নীতির' অভিযোগপত্র শুনানি শুরু বৃহস্পতিবার