Published : 29 Jun 2026, 02:06 PM
ঢাকার মিরপুর থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি আশিকা সুলতানাকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার এ আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম সারাহ্ ফারজানা হক।
আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহাবুদ্দিন রাজু এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর থেকে আশিকা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছিল পুলিশ।
সেই রিমান্ড শেষে রোববার তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মিরপুর থানার এসআই আল মামুন হোসেন।
আশিকা সুলতানার পক্ষে তার আইনজীবী শাহাবুদ্দিন রাজু রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আর্জি জানান।
তিনি বলেন, “এর আগে তার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। আজ আবার নতুন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সাথে জড়িত না। কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
আশিকা সুলতানা কবে গ্রেপ্তার হয়েছেন, জানতে চান বিচারক।
তখন আশিকা সুলতানা বলেন, “২৫ জুন।”
কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বাসা থেকে। আমি আমার মিরপুরের বাসাতেই ছিলাম।
“কোথাও কোনো অ্যাক্টিভিটিজের সাথে জড়িত ছিলাম না। কোথাও না।”
এসময় তার আইনজীবী রাজু বলেন, “মহিলা মানুষ। প্রয়োজনে তাকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।”
শুনানি নিয়ে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
আশিকা সুলতানাকে হাজির করা হবে জেনে আদালতে আসেন তার স্বামী মাইদুল ইসলাম। রিমান্ড আদেশের পর এজলাস থেকে বের হয়ে আশিকা তার স্বামীর সঙ্গে কথা বলেন।
এসময় সাবেক এমপি কাঁদতে থাকলে তাকে অভয় দেন স্বামী। সন্তানের কথা জানতে চান আশিকা। মাইদুল বলেন, “ভালো আছে, খুব ভালো আছে। সবকিছু ঠিকঠাক। টেনশন করিও না।”
লিফটে ওঠার আগে ১৩ বছরের ছেলের কথা জানতে চান আশিকা।
মাইদুল বলেন, “ও ভালো আছে। আমার মা কাল আসবে।”
আশিকা তার মাকে ঢাকায় নিয়ে আসতে বলেন। তখন মাইদুল বলেন, “উনি তো অসুস্থ।”
পরে লিফটে করে নিচে নামানো হয় আশিকাকে। আদালত ভবনের নিচে এসে তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘জয় শেখ হাসিনা’ স্লোগান দেন। বলেন, “আমার কী অপরাধ, আমাকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
পরে তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ জুন মিরপুর এক নম্বরের এপেক্স শোরুম সংলগ্ন বাটা শোরুমের সামনের রাস্তায় আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ৪০ থেকে ৫০ জন সরকারবিরোধী মিছিল করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে উপস্থিত আসামিরা তাদের কাছে থাকা বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন রেখে পালিয়ে যায়।
পরে ভিডিওতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তারা মিছিল করেছে। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।