Published : 11 May 2026, 12:01 PM
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একদিনের ব্যবধানে গ্যাস লিক থেকে আবারও বিস্ফোরণ ঘটেছে; তাতে তিন সন্তানসহ বাবা দগ্ধ হয়েছেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শিবু মার্কেটের পাশে কুতুবপুর রাখিবাজার এলাকার শওকত মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন। ভুক্তভোগীরা ওই বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
আগেরদিন সকাল ৭টার দিকে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি বাড়িতে গ্যাস লিক থেকে বিস্ফোরণে ৩ শিশু সন্তানসহ দম্পতি দগ্ধ হন। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন এ পাঁচজনের অবস্থা ‘আশঙ্কাজনক’ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
সোমবারের দগ্ধরা হলেন—আব্দুল কাদের (৫০) এবং তার ছেলে মেহেদী (১৭), সাকিব (১৬) ও রাকিব (১৬)।

তাদেরকে গুরুতর আহত অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান।
তিনি জানান, কাদেরের শরীরের ৫৭ শতাংশ পুড়েছে, মেহেদীর ১৮ শতাংশ, সাকিবের ১৭ এবং রাকিবের ২৫ শতাংশ পুড়েছে।
শাওন বিন রহমান বলেন, “মেহেদী ও রাকিবের শ্বাসনালীও দগ্ধ হয়েছে। তাদের চারজনের অবস্থাই গুরুতর।”
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. ফারুক জানান, আব্দুল কাদের পেশায় অটোরিকশাচালক। তার ছেলে মেহেদী হালিম বিক্রেতা, সাকিব একটি কারখানার কর্মী এবং রাকিব চটপটি বিক্রি করেন।
তিন ছেলে, স্ত্রীসহ একতলা বাড়িতে ভাড়া থাকে পরিবারটি। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উপজেলায়।

ঘটনার সময় ৩ ছেলে ও বাবা ঘুমিয়েছিলেন। আর তাদের মা রান্নার কাজের জন্য পানি সংগ্রহ করতে ঘরের বাইরে ছিলেন।
ফারুক বলেন, “সকালে বাসায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এরপর আশপাশের মানুষ গিয়ে দেখি, বাড়িটির দরজা-জানলা ভেঙে পড়েছে।
“এরপর ঘরের ভেতর থেকে দগ্ধ অবস্থায় চারজনকে বের করে আনা হয়।”
শিবু মার্কেট ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা অপূর্ব বলেন, “লিকেজ থেকে গ্যাস চেম্বার হয়ে বিস্ফোরণটি হতে পারে। বিস্ফোরণে ভবনের সামনের দিকের দরজা ও জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন খুব বেশি হয়নি, এরমধ্যে চারজন দগ্ধ হয়েছেন।”