Published : 15 Feb 2026, 08:47 PM
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘বাড়তি কোনো ঝামেলা সৃষ্টি করেনি’ বরং ‘কিছু ঝামেলা, কিছু কাঁটা দূর করতে পেরেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রিজওয়ানা বলেন, “আঠারো মাসে সফলতা বলার কিছু নেই, ব্যর্থতাও বলার কিছু নেই। আঠারো মাসেই যদি সবাই সফল আর ব্যর্থ হয়, তবে একটা দাবি তুলতে হবে- নির্বাচিত সরকার ১৮ মাসের ওপর থাকতে পারবে না। তা কি বলা হবে? নির্বাচিত সরকার পাঁচ বছর সময় নেয় কেন?
“ছোট কোনো কাজ পরিকল্পনা করে শুরু করতেই তো সময় নেয় ৬-৭ মাস। বাংলাদেশের যে সিস্টেম তাতে বড় কাজ দেড় দুই বছর আগে শুরুই সম্ভব নয়। আমি বলব আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছি। সফলতা ব্যর্থতার খতিয়ান আমি নিজে থেকে দেব না। জনগণ যেভাবে মূল্যায়ন করে সেভাবেই মূল্যায়ন করবে।”
তিনি বলেন, “আমরা এসেছিলাম আসলে একটা দুর্যোগপূর্ণ সময়ে, সংকটময় সময়ে, আমাদেরকে বলা হয়েছিল দায়িত্ব নিতে। আমরা দায়িত্ব নিয়েছি, আমরা এক-একজন দু-তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছি। আমরা একটা আপৎকালীন সংকটময় সময়ে হাল ধরার জন্য হাল ধরেছি। আমরা কতটুকু কাজ শুরু করে দিতে পেরেছি সেই মূল্যায়ন আপনারা করবেন।
“আমরা মোটামুটি একটা সিস্টেমে এনে দিয়ে চলে যাচ্ছি। সেজন্য আমরা একটা দিক দিয়ে স্যাটিসফেকশন নিয়ে যাচ্ছি। আমরা বাড়তি কোনো ঝামেলা সৃষ্টি করিনি। কিছু ঝামেলা, কিছু কাঁটা দূর করতে পেরেছি। সব তো আর দেড় বছরের সম্ভব না। বাকি কাজগুলো নিশ্চয় পরের সরকার করবে। আমরা তাদের শুভকামনা করি।”
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আগামী সরকার যদি মনে করে কোনো বিষয়ে আমাদের পরামর্শ প্রয়োজন, তবে তারা চাইবেন, অবশ্যই চাইবেন, আমরা দেব। আর আমরা কে কোন মন্ত্রণালয়ে কী কাজ করেছি, চূড়ান্ত করে দিয়ে যাব। ওইখান থেকে তারা যে কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে করবে, সেগুলো নিশ্চয় অব্যাহত রাখবে এবং নতুন কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সহায়তার প্রয়োজন হয়, আমরা অবশ্যই সেই সহযোগিতা দেব।”
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত সাতটি দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও জানান রিজওয়ানা হাসান।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে কি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল– সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, “সরকারি পর্যায়ে এরকম কিছুই নেই।”
ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব দেশ ছেড়েছেন–সেই খবরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, “ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব নেদারল্যান্ডসে থাকতেন, তিনি বরং দেশে এসেছিলেন। ওখানেই তার পরিবার ওখানেই তার সংসার। তিনি দেড় বছর পরিবার থেকে আলাদা থেকে রাষ্ট্রের এই দায়িত্বটা পালন করেছেন। রাষ্ট্রের দায়িত্বটা শেষ হয়েছে, তিনি তার পরিবারের কাছে চলে গেছেন। এটাকে যদি আপনি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে চান করতে পারেন।
“উনি (ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব) টেলিযোগাযোগ সেক্টরে যে রিফর্মগুলো করেছেন সেগুলো অনেকের পছন্দ হয়নি, তারা এই কথাগুলো (সেইফ এক্সিট নিয়েছেন) বলছেন। দেশে একটা গ্রুপ আছে, তারা সবকিছুতেই একটা নাটকীয়তা, উত্তেজনা তৈরির চেষ্টায় থাকে। এটার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং আমাদের তাকে অ্যাপ্রেশিয়েট করা উচিত ছিল, তিনি দেড় বছর তার পরিবারকে রেখে এসে দেশের জন্য কাজ করেছেন।”