Published : 17 Sep 2025, 07:27 PM
যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) স্থগিত রয়েছে তারা প্রবাসে থেকে ভোট দিতে নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন না বলেছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, “যাদের এনআইডি লক (স্থগিত) রয়েছে তারা ভোট দিতে পারবে না।”
ইসির এই বক্তব্য অনুযায়ী, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা যাদের এনআইডি স্থগিত করা হয়েছে, তারা প্রবাসে থেকে ভোট দিতে পারবেন না।
গেল ১৬ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের ১০ জনের এনআইডি স্থগিত করে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ।
শেখ হাসিনা ছাড়াও যাদের এনআইডি স্থগিত রয়েছে, তারা হলেন- ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন রেহানা সিদ্দিক, ভাগ্নি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক, ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকও আছেন এ তালিকায়, যিনি রেহানার দেবর। তারিকের স্ত্রী শাহিন সিদ্দিক এবং তাদের মেয়ে বুশরা সিদ্দিকের এনআইডিও স্থগিত করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে।
শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যরাও বিদেশে রয়েছেন। তাদের প্রায় সবাইকে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন হত্যার ঘটনায় করা মামলার আসামি করা হয়েছে। ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির’ অভিযোগেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গেল ১১ মার্চ শেখ হাসিনা, তার পরিবার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং আওয়ামী লীগের নামে ১২৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেয় আদালত।
ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন প্রস্তাব করেছে। আদালত ঘোষিত ফেরারি আসামিকে ভোটে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়নি।
বুধবার সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় নির্বাচন কমিশন সচিব এনআইডি স্থগিত থাকা ব্যক্তিদের প্রবাসে থেকে ভোট দিতে না পারার বিষয়টি বলেন। তবে তিনি কারো নাম বলেননি।
পরে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চাইলে আখতার আহমেদ বলেন, “(প্রবাসী ভোটিংয়ের জন্য) মূল বিষয় হল নিবন্ধন। এআইডি লক থাকলে নিবন্ধনের জন্য সুযোগ পাবেন না। সেক্ষেত্রে লক করা এনআইডি যাদের, তাদের নিবন্ধনের সুযোগ নেই; তাহলে প্রবাসে থেকে ভোট দেবেন কী করে!”
ইসি কর্মকর্তারা বলেছেন, এনআইডি স্থগিত হলে কার্ডটি আর ব্যবহার করা যায় না।
এবার প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোটের ব্যবস্থা নিয়েছে এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইতোমধ্যে পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসীদের ভোটিংয়ের জন্য ‘পোস্টাল ব্যালট বিডি’ নামে একটি নিবন্ধন অ্যাপ চালুর প্রক্রিয়া চলছে।
নিবন্ধন করার পর নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে প্রতীকসহ ব্যালট পেপার পাঠানো হবে বিশেষ খামে। ভোট দেওয়ার পর তা দেশে ফেরত এনে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা হবে।
প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোটিংয়ের বিষয়টি গণপ্রতিনিধিত্ব আইনে যুক্ত করা হচ্ছে, সঙ্গে ভোট পদ্ধতিও তুলে ধরবে ইসি। আইন পাসের পর অক্টোবর-নভেম্বরে এ নিয়ে ব্যাপক প্রচারের কর্মসূচিও রয়েছে।
ইসির ঘোষিত রোডম্যাপে বলা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর প্রতীক বরাদ্দ হলে এসব ব্যালট পেপার কখন পাঠানো হবে তা নির্ধারণ করবে ইসি, ভোটের এক সপ্তাহ আগে পৌঁছানো হবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে।
এরপর ফেব্রুয়ারির ভোটে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোট দেবে পোস্টাল ব্যালটে।
আগের খবর:
হাসিনা পরিবারের ১০ জনের এনআইডি স্থগিত