Published : 06 Sep 2026, 04:46 PM
ঢাকার ধানমন্ডিতে অস্ত্রের মুখে এক ব্যবসায়ীর ৩৮ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য।
পুলিশ বলছে, এ চক্রে বর্তমান এক সেনা সদস্যও আছেন, যার বিষয়ে তার বাহিনীকে অবগত করা হয়েছে।
রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে এ ডাকাতির ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজনকে ঘটনার সময় হাতেনাতে এবং বাকিদের দক্ষিণখান, পটুয়াখালী, কুয়াকাটা বাসস্ট্যান্ড, মোহাম্মদপুর, বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধরা হয়।
তারা হলেন—তানভীর আবেদীন (৪১), মজিবুর রহমান (৬০), জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির (৬০), সোলায়মান মৃধা (৫৫), মোহাম্মদ কবির হোসেন (৫০), আবুল কালাম আজাদ (৫০), জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিন (৪০), সজল চৌধুরী (৩১) ও সায়মুন চৌধুরী (৩৩)।
সাবেক সেনা সদস্যদের বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, “মজিবুর রহমান সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। মোহাম্মদ জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির সেনাবাহিনীর অনারারি ক্যাপ্টেন পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন।
“আর সোলায়মান সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার পদ থেকে অবসর নিয়েছেন।”
তাদের মধ্যে কেউ কেউ এক সময় র্যাবে কর্মরত ছিলেন বলে জানান তিনি।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, এ চক্রে শফিক নামে সেনাবাহিনীর একজন ল্যান্স করপোরালও রয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধানমন্ডি থানার ওসি মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম বলেন, “আমরা তার বিষয়ে সেনাবাহিনীকে অবগত করেছি, মামলার যাবতীয় নথিও পাঠিয়ে দিয়েছি।
“তার বিরুদ্ধে হয়তো তারা সেনা আইনে ব্যবস্থা নেবে, তবে তাকে এখনো আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।”
গত ৩০ অগাস্ট দুপুরে ধানমন্ডি ১২ নম্বর সড়কে ডিঙ্গি রেস্তোরাঁর সামনে খোরশেদ আলম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় ৮-১০ জনের একটি দল। এ ঘটনায় ডাকাতির অভিযোগে খোরশেদ আলম এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ধানমন্ডি থানার এসআই সাইফুল ইসলাম পরদিন মামলা করেন।
এদিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তানভীর আহমেদ জুয়েল ও মজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি রিভলভার উদ্ধার করা হয়।
পরে মজিবুর ও তানভীরের দেওয়া তথ্যে দক্ষিণখান থেকে জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পর্যায়ক্রমে বাকি ৬ জনকে বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম কমিশনার ফারুক বলেন, “গ্রেপ্তার জাকারিয়ার কাছ থেকে লুট হওয়া ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫০ টাকা এবং সজল চৌধুরীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।”
সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রে জড়িত পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
গ্রেপ্তার তানভীরের বিরুদ্ধে চারটি ও সজলের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ, যেগুলো ডাকাতি ও ছিনতাই সংক্রান্ত। আর জাকারিয়ার বিরুদ্ধে মাদক ও হত্যাচেষ্টার দুটি মামলা রয়েছে।
লুট যেভাবে
যুগ্ম কমিশনার ফারুক বলেন, খোশেদ আলম নামে ওই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সোনা কেনার জন্য টাকা নিয়ে ওই চক্রের সদস্যদের সঙ্গে ধানমন্ডিতে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সোনা লেনদেনের জন্য তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভুক্তভোগীকে রিকশায় ধানমন্ডির ডিঙ্গি রেস্তোরাঁর সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।
ওই এলাকায় আগে থেকেই লেলিনের নেতৃত্বে চার-পাঁচজনের একটি দল অবস্থান করছিল। এরপর চক্রটি রিকশার গতিরোধ করে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে মারধর করে। পরে কয়েকজন বাইকে করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, “এই ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের মধ্যে কয়েকজন সোনা কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত। তারা সোনা কিনতে চাওয়া ক্রেতা সংগ্রহ করে বলে, তাদের কাছে সোনা আছে।
“যদি সোনা কিনতে চান, তাহলে টাকা নিয়ে আসেন। এরপর তারা একটি জায়গায় বসে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। পরে সোনা ও টাকার বিনিময় করার জন্য যখন নির্ধারিত জায়গায় যান, তখন পরিকল্পনা করে ডাকাতি করেন।”
পুলিশ গ্রেপ্তারদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে চক্রের অন্যদের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করবে বলে জানান তিনি।
অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা ছিনতাই: ৪ আসামি রিমান্ডে
ঢাকার সড়কে ছিনতাইয়ের 'ওত পাতা' আতঙ্ক, সম্পদের সঙ্গে যাচ্ছে প্রাণও