Published : 07 Dec 2025, 01:28 PM
অননুমোদিত মোবাইল ফোন বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনের সামনে সড়ক আটকে বিক্ষোভে দেখাচ্ছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী ও তাদের কর্মচারীরা।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা সড়ক বন্ধ করে অবস্থান নিলে একপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান শেরেবাংলা নগর থানার পরিদর্শক মাসুদ রানা।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মোবাইল ব্যবসায়ীরা সড়কে অবস্থান নেওয়ায় শিশুমেলা থেকে আগারগাঁওগামী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আরেকপাশে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।”

এদিকে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের সড়কে অবস্থানের কারণে শিশুমেলা মোড়ে সড়কের একপাশ আটকে দিয়েছে পুলিশ। এর ফলে শ্যামলী এলাকার মিরপুর সড়কে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। একই অবস্থা দেখা গেছে আগারগাঁও ও শেরেবাংলা নগর এলাকায়।
আন্দোলনকারীরা আগারগাঁও মোড় থেকে শুরু করে ভেতরের সড়কগুলোও বন্ধ করে দিয়েছে। তাতে করে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে থেকে শুরু করে যানজট ছড়িয়েছে কাজীপাড়া-শেওড়াপাড়া পর্যন্ত। পুলিশ যানবাহনগুলোকে ভেতরের অলিগলিগুলোতে বিকল্পপথ দেখিয়ে দিচ্ছে।
বিটিআরসি ভবনের সামনে ব্যবসায়ীরা সরকারের পদত্যাগ ও সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তারা প্ল্যাকার্ড, ব্যানারসহ বিটিআরসির সামনে সড়ক প্রদক্ষিণ করছেন।
আফতাবউজ্জামান নামে একজন ব্যবসায়ী বলেন, “সরকার গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর একটা সিন্ডিকেটের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েই এই এনইআইআর বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে পথে বসতে যাচ্ছে কয়েক লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।”
নিজের ব্যাংক ঋণের কথা উল্লেখ করে এ ব্যবসায়ী বলেন, “আমার দোকানের ৬৬ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ আছে। এখানে অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যাদের কয়েক কোটি টাকার লোন আছে। স্টকে অনেক মাল আছে।
“এগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দিয়েই সরকার জবরদস্তি করে এই এনইআইআর বাস্তবায়নের তোড়জোড় করছে।”
সরকারের তরফ থেকে ব্যবসায়ীদের মোবাইল আমদানির এই প্রক্রিয়াকে অবৈধ বলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ী আফতাবউজ্জামান বলেন, “এইখানে তো কেউ লুকিয়ে-চুরিয়ে ব্যবসা করে নাই। সবাই প্রকাশ্যে বড় বড় শপিংমলে শোরুম নিয়ে ব্যবসা করছে। তাহলে এতদিন সরকার দেখেনি কেন।”
এই বিক্ষোভ হাজার খানেক ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মী যোগ দিয়েছেন। সকালবেলা বাস ভরে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে বসুন্ধরা, যমুনা ফিউচার পার্কসহ বিভিন্ন বিপণিবিতান থেকে এসে তারা বিটিআরসির সামনে জড়ো হন।
‘মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের’ ব্যানারে অবস্থান নেওয়ার একপর্যায়ে তারা সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) কার্যকরের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গেল রোববার ঢাকাসহ দেশের অনেক মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখা হয়।
সেদিন ঢাকার কারওয়ান বাজারে সার্ক ফোয়ারা মোড়ে বিক্ষোভও দেখান ব্যবসায়ীরা, এর একদিন বাদে মঙ্গলবার ঢাকার প্রগতি সরণিতে সড়ক আটকে বিক্ষোভ দেখান তারা।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, এই প্রক্রিয়ার কিছু সংস্কার, ন্যায্য করনীতি প্রণয়ন, একচেটিয়া সিন্ডিকেট বিলোপ এবং মুক্ত বাণিজ্যের স্বার্থে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে তাদের কিছু দাবি ও প্রস্তাব রয়েছে। এ বিষয়ে তাদের কথা না শুনেই সরকার একতরফা এনইআইআর চালু করতে যাচ্ছে।
সিন্ডিকেট প্রথা বিলোপ ও মোবাইল ফোন আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করাসহ নানা দাবিতে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য মোবাইল দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা আগের দিন দেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। সেই অনুযায়ী দোকান বন্ধ রেখে বিটিআরসি ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তারা।