২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বেশিরভাগ অপরাধের মূলে ‘জমি-জমার বিরোধ’, রাড্ডা ও নিউ গিনিতে ভাংচুর প্রসঙ্গে বলছে এসআরবি

“জমি-জমার সমাধানটা যদি আমাদের দ্রুততম সময়ে করা যায় সেক্ষেত্রে অনেক ক্রাইম এমনিতেই কমে যাবে।”

বেশিরভাগ অপরাধের মূলে ‘জমি-জমার বিরোধ’, রাড্ডা ও নিউ গিনিতে ভাংচুর প্রসঙ্গে বলছে এসআরবি

ঢাকার কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Sep 2026, 07:59 PM

Updated : 29 Sep 2026, 07:59 PM

বাংলাদেশে বেশিরভাগ অপরাধের মূলেই ‘জমি-জমার বিরোধ’ খুঁজে পাওয়ার কথা বলেছেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-এসআরবি-৪ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান।

সম্প্রতি ঢাকার মিরপুরে ‘রাড্ডা’ ও দক্ষিণ মানিকদীতে ‘নিউ গিনি প্রপার্টিজের’ প্রকল্প এলাকায় হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, তারা ছায়াতদন্ত করে সেসব ঘটনায় চাঁদাবাজির কোন বিষয় পাননি।

আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের এক ‘হোতাকে’ গ্রেপ্তারের বিষয় জানাতে মঙ্গলবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি।

এ সময় মিরপুর ও মানিকদীর সম্প্রতি দুটি আলোচিত হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে এসআরবির এই কর্মকর্তা বলেন, তারা সবসময়ই অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করছেন।

‘রাড্ডা’, ‘নিউ গিনি প্রপার্টিজ’ ও সাভারের আশুলিয়ায় একটি মাদ্রাসা ভাংচুরের ঘটনায় নিজেদের ছায়াতদন্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সবগুলো ঘটনায় একটা ছায়াতদন্ত করে দেখেছি। মূল ঘটনাটা সেখানে চাঁদাবাজি ছিল না। মূল ঘটনা জায়গা নিয়ে বিরোধ। জমি-জমার বিরোধ থেকে এই সমস্যাগুলো তৈরি।

“এই সমস্যাগুলো উত্তরণের জন্য মারামারি, চাঁদাবাজি, অস্ত্র-এই বিষয়গুলোর জন্য আমরা সর্বোচ্চ সচেষ্ট আছি।”

লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর বলেন, “তবে জমি-জমার বিষয়গুলো সমাধানটা যদি দ্রুততম সময়ে করা যায়, তাহলে অনেকক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনেক অপরাধ কমে যাবে। বেশিরভাগ অপরাধেরই আমরা রুট খুঁজতে গিয়ে দেখেছি, এটা কোনো একটা জমি-জমা থেকে শুরু হয়েছে। জমি-জমার সমাধানটা যদি আমাদের দ্রুততম সময়ে করা যায় সেক্ষেত্রে অনেক ক্রাইম এমনিতেই কমে যাবে।”

তবে বাহিনীটির তরফে সকল ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধেই ‘অভিযান অব্যাহত’ রাখার কথা বলেছেন তিনি।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীররাতে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কার্যালয়ের একটি টিনশেড ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

আর পাকা ভবনের আল্ট্রাসোনো কক্ষ, টিকা কক্ষ, ল্যাবরেটরিসহ পাঁচটি কক্ষের জানালা-দরজা ভেঙে ফেলা হয়। ভবনটি থেকে সব ধরনের আসবাবপত্র, ওষুধসামগ্রী, আল্ট্রাসোনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি, আলমারি নিয়ে যায় হামলাকারীরা।

সব মিলিয়ে পুরো স্থাপনাটির কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

সংস্থাটির অভিযোগ, হামলার সময় তাদের অফিসের সামগ্রীসহ টিকাদানের প্রচুর সামগ্রী লুটপাট হয়েছে।

এর একদিন বাদে ২৬ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে ‘নিউ গিনি প্রপার্টিজ’ প্রকল্প এলাকায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

হামলা হয় আবাসন প্রকল্পের কার্যালয় ও আশপাশের স্থাপনায়। এর মধ্যে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওর নাম আছে।

এর পরদিন সাভারের আশুলিয়ায় ‘তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাযিল’ নামে একটি মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া যায়।

তিনিটি ঘটনাতেই এসআরবির করা ছায়াতদন্তের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে বাহিনীটির এই কর্মকর্তা বলেন, এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে, তদন্তের আগেই এটা বলে দেওয়া ‘ঠিক হবে না’।