বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে ছাত্রীকে হত্যার মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড
আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সাভারের আশুলিয়ায় ১৯ বছর আগে স্কুলছাত্রী মাহমুদা আক্তার রক্সিকে (১৪) হত্যার মামলায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
ঢাকার ৩য় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. হুমায়ুন কবির রোববার এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী আমিনুর রহমান রোববার বলেন, “মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম রেজাউল ইসলাম। আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।”
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ২৮ মার্চ আশুলিয়ার বাসিন্দা স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মাহমুদা আক্তার রক্সিকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রেজাউল ইসলাম। রক্সি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে রেজাউল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি রক্সিকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালের ২ এপ্রিল সকালে রক্সির ঘরে ঢুকে রেজাউল তাকে শাবল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে রক্সির মাথার খুলি তিন টুকরো হয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় রক্সিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলেও ওই রাতেই সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রক্সির খালাত ভাই নুরুল ইসলাম বাবু সেদিনই আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই আ. আলিম মামলার তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ৪ জুলাই রেজাউলকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০০৮ সালের ৪ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
বিচার চলাকালে আদালত ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামি পলাতক থাকায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়নি। মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রোববার আদালত থেকে আসামির সাজার রায় এল।
দণ্ডপ্রাপ্ত রেজাউল রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার অভিরাম নুরপুর গ্রামের আব্দুল বারীর ছেলে।
